ঢাকা, শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৭

প্রিন্ট

আবরার হত্যা বিচার নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

আবরার হত্যা বিচার নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে যে দলই করুক না কেনো তার বিচার হবে। আবরার হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ঘটনা শুনে তখনই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলেছিলাম। যখন পুলিশ সিসিটিভি নিয়ে আসছে তখন তাদের ঘেরাও করা হলো। তাদের ফুটেজ নিয়ে আসতে দেয়া হবে না। আমাকে জানানো হলো ফুটেজ নিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। আমার প্রশ্ন ছাত্ররা তাদের আটকে দিলো কেনো?

তিনি যোগ করেন, এরপর আমি যাদের ফুটেজে দেখা গেছে- তাদের মধ্যে যাদের পেয়েছি তাদের অ্যারেস্ট করিয়েছি।

আমি আইজিপিকে বলেছি, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল। আমি তা বিবেচনা করিনা। কি অমানবিক। একটা ছাত্রকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হলো! এক সময় আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কখনোই অন্যায় মেনে নিবোনা। আমার দল হলেও কিছু আসে যায়না।

সম্প্রতি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমি আশার পর থেকে চেষ্টা করছি ক্যাম্পাসগুলোতে এ ঘটনা যেনো না ঘটে। একটা সময় দুপুর দুইটার পর ঢাবিতে ক্লাসই হতো হতো না। ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। যে অন্যায় করেছে সে অন্যায়কারী। গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে।

পরিবার হারানো কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো বাপ-মা, ভাই-বোন, সব হারিয়েছি। আমি তো কষ্টটা বুঝি। একটা মেধাবী ছাত্র (আবরার) হারালে মায়ের যে কি কষ্ট আমি বুঝি।

অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তারা কোন দলের বা কি কিছু দেখা হবে না। অপরাধী- অপরাধীই।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাহাদ। এর জেরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় ১৪ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কৃষ্ণপদ রায়।

এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় বুয়েট শাখার সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত