ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২০:৫৬

প্রিন্ট

পাহাড়ে পাহাড়ে জুম কাটার ধুম

পাহাড়ে পাহাড়ে জুম কাটার ধুম
অনলাইন ডেস্ক

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদম উপজেলার প্রায় সবাই জুম চাষ করে। এটি তাদের আদি পেশা। এখানে মার্মা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, লুসাই, পাংখো, বম, চাকসহ ১১টি জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই এ চাষের ওপর নির্ভরশীল।

জেলা শহরে বসবাসরত কিছু শিক্ষিত পরিবার ছাড়া দুর্গম এলাকার অনেকেই এ চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। জুমিয়া পরিবারগুলো প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে এ চাষের জন্য পাহাড়ে আগুন দেয়।

এপ্রিল মাসের শেষের দিকে শুরু হয় জুমের ধান লাগানোর প্রক্রিয়া। প্রায় তিন-চার মাস পরিচর্যার পর সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে এ ধান কাটা শুরু করে। তাই জুমের ফসল ঘরে তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে পরিবারগুলো। শিশু-কিশোরসহ পরিবারের কেউই বসে নেই ঘরে। সবাই ধান কাটতে নেমেছে পাহাড়ে।

এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহায়তায় জুম চাষে বেশি ফলন পেতে শুরু করেছেন চাষিরা। জুমের ফসলের মধ্যে মারফা, ভুট্টা, তিল, তুলা, মরিচ, কাকন চাল, বিনি চাল ও ধান অন্যতম।

চাষিরা জানান, পাহাড়ে ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, মরিচ, সরিষা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন রকমের সবজির চাষ করেন। তবে একই পাহাড়ে একাধিকবার জুম চাষ করা যায় না। তাই ভিন্ন ভিন্ন পাহাড়ে এ চাষ করা হয়।

জেলার চিম্বুক পাড়ার জুম চাষি মেনড্রং ম্রো বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জুমের ফসল ভালো হয়েছে। নিজেদের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করব।

আরেক চাষি থংপ্রে ম্রো বলেন, জুমের ফলন ভালো হওয়ায় খুব খুশি লাগছে। পরিশ্রমও সার্থক হয়েছে। সারা বছর শান্তিতে খেতে পারবো।

১১টি পাহাড়ি জনগোষ্টীর মধ্যে ম্রো সম্প্রদায় আদিকাল থেকে এ চাষের মাধ্যমেই সারা বছরের জীবিকা সংগ্রহ করে। ফসল ঘরে তোলার আনন্দে পল্লীগুলোতে চলছে এখন নবান্ন উৎসবও। গোত্র ভেদে পাহাড়িরা উৎপাদিত ফসল দেবতাকে উৎসর্গের মাধ্যমে এ উৎসব উদযাপন করে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর ৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে জুম ধান চাষ হয়েছে। এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিড়িখা, উফশি, পিডি, ককরো, বিনি, গেলং জাতের ধান। আর গত বছর জুম চাষ করা হয়েছে ৮ হাজার ৪৫৮ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. একেএম নাজমুল হক বলেন, জেলায় প্রতি বছর জুম চাষ হয়। জুমে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের ধানের ফলন বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি গবেষণা ও কৃষি অধিদফতর কাজ করছে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত