ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৫

প্রিন্ট

এবার আবরার হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামি অনিক

এবার আবরার হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন অনিক
জার্নাল ডেস্ক

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়া আসামি অনিক সরকার ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত এই তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দুই দফায় ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে শতাধিকবার আবরারকে আঘাত করেন।

শনিবার জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আবরার নিস্তেজ হয়ে না পড়ে ততক্ষণ পর্যন্ত ধাপে ধাপে আমিসহ অন্যরা তাকে পিটিয়েছি।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুর রহমান বলেন, অনিক সরকার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম তার খাস কামরায় আসামির জবানবন্দি নেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আবরার হত্যা মামলায় এ নিয়ে মোট তিনজন আদালতে জবানবন্দি দিলেন। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার জবানবন্দি দেন বুয়েট ছাত্রলীগের উপসমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল এবং পরদিন জবানবন্দি দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিওন।

জবানবন্দিতে অনিক বলেন, আগে থেকেই অর্থাৎ ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে আবরার আমাদের টার্গেটে ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ওর কাছ থেকে হলের কিছু শিবিরকর্মীর নাম জানা। ঘটনার দিন সে (আবরার) গ্রামের বাড়ি থেকে আসার পর আমাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় সন্ধ্যার পর তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে ডাকা হবে। এরপর রাত ৮টার পর আবরারকে ওই কক্ষে ডাকা হয়। সঙ্গে তার মোবাইল ও ল্যাপটপ আনা হয়। তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় আবরার চুপ ছিল। একপর্যায়ে তার মোবাইল ও ল্যাপটপ ঘেঁটে উসকানিমূলক কিছু তথ্য পাই আমরা। ওর মোবাইলে ইসলামী গান ও গজল পাওয়া যায়। যখন ও শিবিরে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে এলোমেলো কথা বলছিল, তখন মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করি। আমি দুই দফায় আবরারকে অনেক পেটাই। কক্ষে থাকা ইফতি এবং তানভীরও স্টাম্প দিয়ে পেটায়। ওই সময় মেহেদি হাসান রবিন রুমে এসে তাকে পেটায়। একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে বমি করে। এরপর আবরারকে কোলে করে সিঁড়িঘরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ও চিকিৎসকদের খবর দেয়া হয়। চিকিৎসক এসে ওকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ইফতি মোশাররফ সকাল ও মেফতাহুল ইসলাম জিওন। ইফতি জানিয়েছিলেন, আবরারের হাঁটু, পা, পায়ের তালু ও বাহুতে আঘাত করছিলেন অনিক সরকার। একই কায়দায় অন্তত ২২ জন দফায় দফায় আবরারকে পেটান। ক্যান্টিনে রাতের খাবার খেয়ে এসে আবরারকে নিস্তেজ অবস্থায়ও ফের পেটানো হয়। রাত ১১টার দিকে অনিক স্টাম্প দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এলোপাতাড়ি পেটান।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। রাত তিনটার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত