ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০৮

প্রিন্ট

নিজ স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর ভয়ঙ্কর কাণ্ড

নিজ স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর ভয়ঙ্কর কাণ্ড
জার্নাল ডেস্ক

কিছুদিন আগে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ ছেলেকে হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো বাংলাদেশ। এবার ঘটল আরেক নৃশংস ঘটনা। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জায়গা জমি নিয়ে বড় ভাইয়ের সাথে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসাতে ও বিভিন্ন এনজিও থেকে স্ত্রীর নামে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ না করার লক্ষ্য নিয়ে নিজ সন্তান ও সমুন্ধির ছেলের সহায়তায় নিজের স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আলাল উদ্দিন, ছেলে শরীফুল ও অপর সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আলাল উদ্দিন বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেওহাটা ফাড়ি ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম।

জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন চার সন্তানের জননী সুফিয়া। ঐদিন দুপুরে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে থানায় জিডি করেন তার স্বামী আলাল উদ্দিন। পরদিন ১৪ই অক্টোবর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের আজগানা পূর্বপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের আলুয়া বিলে পাওয়া যায় তার লাশ। তাকে হত্যার পর লাশ বিলে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করে পুলিশ।

লাশ উদ্ধারের পর সুফিয়ার স্বামী আলাল উদ্দিন তার আপন ভাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে জোর দাবি করেন। একই দাবি করেন নিহত সুফিয়ার ছেলেরা। পরে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেন নিহত সুফিয়ার ভাই মেছের আলী। তদন্তে নামে পুলিশ। কিন্তু তদন্ত শেষে উঠে আসে গা শিউরে ওঠা ঘটনা।

পুলিশ জানায়, স্ত্রীর নামে বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নেওয়া ছিলো প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা লোন নেওয়া ছিলো অপরদিকে নিজের আপন বড় ভাইয়ের সাথে জমি-জমা নিয়ে ছিলো ঝামেলা। প্রতি সপ্তাহেই কিস্তির টাকার দায় টানতে টানতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন ঘাতক আলাল উদ্দিন। তাই এনজিও থেকে লোনের টাকা মওকুফ পাওয়া ও স্ত্রীকে খুন করে সেই দায় বড় ভাইয়ের উপর চাপিয়ে দেওয়ার দুই লক্ষ্য নিয়ে বড় ছেলে শরীফুল (২৮) ও সমুন্ধির ছেলে স্বপনের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে খুন করা করা হয় সুফিয়াকে। এরপর লাশ বিলে ফেলে স্ত্রী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার মিথ্যে গল্প সাজায় স্বামী আলাল উদ্দিন।

সুফিয়ার ভাই মেছের আলী বলেন, আমার বোনের হত্যাকারী যেই হোক আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। তবে পুলিশের প্রতি সুষ্ঠু ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত আসামিই যেন সাজা পায় সেই দাবিও করেন তিনি।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাযেদুর রহমান জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন করা গেছে। একজন স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত