ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৩

প্রিন্ট

কলেজছাত্র সোহাগ হত্যার নেপথ্যে পরকীয়া

কলেজছাত্র সোহাগ হত্যার নেপথ্যে পরকীয়া
যশোর প্রতিনিধি

সোমবার যশোরের মোল্লাপাড়া ভৈরব নদের পাড় এলাকায় কলেজছাত্র সোহানুর রহমান সোহাগ হত্যার পেছনে প্রেমঘটিত কারণ রয়েছে বলে জানাগেছে। রোববার রাতে তারই এলাকার সিরাজুল ইসলাম সিরার ছেলে জিতু ও মৃত খায়রুলের ছেলে রায়হানকে দিয়ে বাড়ি থেকে সোহাগকে ডেকে নেয়া হয়। এরপর নদের পাড়ে ইয়াবা সেবন করিয়ে ৪জনে একত্রিত হয়ে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে বলে ওই এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, যশোরের এক সময়কার আলোচিত পুলিশের সোর্স বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোডে বসবাসকারী শামীম ওরফে ক্লিক শামীমের স্ত্রী তৃষ্ণার প্রথম পক্ষের স্বামীর নাম ইদ্রিস আলী। ক্লিক শামীম নিহত হওয়ার পর তৃষ্ণা মোল্লাপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। তৃষ্ণা ও ইদ্রিস পরিবারে অনন্যা নামে একটি মেয়ে আছে। বর্তমানে মা-মেয়ে এসপি বাংলো এলাকার একটি বাড়িতে বসবাস করেন।

এদিকে অনন্যার বিয়ে হয় মোল্লাপাড়ার সিদ্দিকের ছেলে রাকিবের সাথে। রাকিব শহরের বড়বাজারের কোরবান আলীর মাছের আড়তে কাজ করেন।

সূত্রটি জানিয়েছে, অনন্যার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কলেজছাত্র সোহাগের। সেই প্রেম দৈহিক সম্পর্কে গড়ায়। বিষয়টি টের পেয়ে যান রাকিব। পরে তাদের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়। সম্প্রতি রাকিবের সাথে অনন্যার তালাক হয়ে যায়। কিন্তু সোহাগের সাথে অনন্যার সম্পর্ক থেকেই যায়। এই কারণে রাকিব ক্ষিপ্ত হন সোহাগের ওপর। তাকে হত্যা করা হবে বলে মোবাইল ফোনে অনন্যাকে হুমকিও দিয়েছেন রাকিব।

হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী রাকিব একই এলাকার দুর্ধর্ষ জিতু, রায়হান ও শরীফ রোববার রাতে মোবাইল ফোনে সোহাগকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে নদের পাড়ে নিয়ে তাকে প্রথমে ইয়াবা সেবন করানো হয়। পরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

সোমবার সকালে রাকিব মোবাইল করে অনন্যার কাছে সোহাগের মৃতুর বিষয়টি জানায় বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোহাগের লাশ উদ্ধারের সময় অনন্যা নদের পাড়ে যান এবং কান্নাকাটি করতে থাকেন। বিষয়টি উপস্থিত সাংবাদিক ও এলাকার লোকজন প্রত্যক্ষ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার পরিবহন শ্রমিক নেতা হারুন অর রশিদ ফুলু। কান্নাকাটি করা মেয়েটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। পাশ থেকে একজন নিহতের ভাবী বলে পরিচয় দেন।

সূত্রটি জানিয়েছে, লাশ উদ্ধারের পর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার, এসআই এইচএম মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার নিহত সোহাগের বাড়িতে যান এবং তার পিতা হাবিবুর রহমান ও মা কোহিনুর বেগমের সাথে কথা বলেন। ওই সময় কোহিনুর বেগম জানান, রায়হান ও জিতু তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গেছে। সোহাগের মোবাইল ফোন দুটি উদ্ধার করতে পারলে হত্যাকারীদের পরিচয় জানা যাবে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এই হত্যা মামলাটি ভিন্ন দিকে ঘোরাতে এলাকার একটি পক্ষ তৎপর। জিতুকে যাতে মামলায় না জাড়ানো যায় সে জন্য দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে। সোহাগের দেহে ছুরির ক্ষত দেখে অনেকে মন্তব্য করেছেন এই কাজ জিতুর। কারণ তার ছুরি চালানোর বৈশিষ্ট রয়েছে। জিতু বেশ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। ভয়নক ভাবে সে ছুরি দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করতে পারে।

ওই এলাকার বিল্লাল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জিতু। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

এছাড়া কোতয়ালি থানার সাবেক এক কর্মকর্তার ভাইয়ের কাছ থেকে ছিনতাই করার সময় ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে জিতু। এলাকার মিল্টন, মহাসিন হত্যা মামলারও আসামি জিতু।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত