ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০১:২৩

প্রিন্ট

এমপি পদ হারাবেন বিএনপির হারুন!

এমপি পদ হারাবেন বিএনপির হারুন!
শুল্ক ফাঁকির মামলায় সাংসদ হারুনকে সোমবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্কমুক্ত গাড়ি ক্রয় করে পরে তা বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় দেন।

হারুন অর রশীদ বিগত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।

শুল্ক ফাঁকির মামলায় সাংসদ হারুনকে সোমবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কোনো ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হওয়া বা সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারাবেন। আর জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো এমপিকে তার পদে থাকার অযোগ্য মনে হলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম সোমবার হারুন অর রশিদের উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি এনায়েতুর রহমান বাপ্পী ও ইশতিয়াক সাদেক পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল ব্রিটেন থেকে হামার ব্র্যান্ডের শুল্কমুক্ত একটি গাড়ি এমপি কোটায় আমদানি করেন হারুন অর রশিদ। পরে ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করে শুল্ক বাবদ সরকারের ৮৭ লাখ ৭১ হাজার ৬১২ টাকা ফাঁকি দিয়ে স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেকের মাধ্যমে তিনি গাড়িটি এনায়েতুর রহমান বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়। তবে তিনি নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হন।

নিয়ম অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করে তা বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগে এমপি হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোনায়েম হোসেন। আদালত ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট হারুনসহ তিন আসামির চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করেন। বিভিন্ন সময় আদালতে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। আদালতে হারুন অর রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গনী টিটো।

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত