ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১০:০৫

প্রিন্ট

দরিদ্র প্রিয়াংকাকে ডাক্তারি পড়াবেন যুবলীগ নেতা

দরিদ্র প্রিয়াংকাকে ডাক্তারি পড়াবেন যুবলীগ নেতা
নড়াইল প্রতিনিধি

সারা দেশে যখন যুবলীগের নানা অনৈতিক কার্যকলাপে সমালোচনার ঝড় বইছে ঠিক সেসময় এক গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডাক্তার পড়ানোর সকল খরচ বহনের ঘোষণা দিলেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সরদার তারিক হাসান। ওই শিক্ষার্থী পৌরসভার দূর্গাপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি ও ঘরামি তাপস গাঙ্গুলীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গাঙ্গুলী।

প্রিয়াংকা সরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও অর্থের অভাবে তার স্বপ্ন পূরনের পথে বাধা হলে দাঁড়িয়েছিল পরিবারের আর্থিক অচ্ছলতা।

গত রোববার বিকেলে জেলা যুবলীগের সদস্য সরদার তারিক হাসান তার নড়াইল শহরের অফিসে প্রিয়াংকার বাবা তাপস গাঙ্গুলীর হাতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। এছাড়া মেডিকেল কলেজের পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্তু প্রতি মাসে লেখাপড়ার খরচ বাবদ তাকে ২ হাজার টাকা করে দেয়ারও ঘোষণা দেন।

এ সময় নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মীর্জা নজরুল ইসলাম, সৈয়দ হুমায়ুন আমীর বাবু, ফারহাদ আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রোববার ভর্তির টাকা পেয়ে সোমবার প্রিয়াংকা কুষ্টিয়া সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রিয়াংকার বাবা তাপস গাঙ্গুলী ও তার মা কাঞ্চন গাঙ্গুলী জানান, ‘আমরা ভাবতে পারিনি প্রিয়াংকার স্বপ্ন পূরণ হবে। জনাব তারিক হাসান এগিয়ে না আসলে কিভাবে সে ভর্তি হতো তা ভেবে পাচ্ছি না। আমরা তার কাছে চির কৃতজ্ঞ।’

প্রিয়াংকা বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে চিকিৎসক হবার। সে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।’তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসার জন্য তিনি তারিক হাসানসহ স্কুল ও কলেজের সমস্ত শিক্ষকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রিয়াংকার শিক্ষক প্রভাষক প্রশান্ত সরকার জানান, প্রিয়াংকা অনেক কষ্ট স্বীকার করে এ পর্যন্তু এসেছে। দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে তার উচ্চ শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা ছিল অসম্ভব একটি বিষয়। তিনি যুবলীগ নেতা তারিক হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, নড়াইল পৌরসভার দূর্গাপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি ও ঘরামি তাপস গাঙ্গুলীর কন্যা প্রিয়াংকা। বসতভিটার ৭ শতাংশ জমি ছাড়া তাদের চাষের আর কোনো জমি নেই। চারজনের সংসারে তাপস গাঙ্গুলী অন্যের ছন বা টিনের ঘর তৈরি করে যা পান তাই দিয়ে সংসার চলে। নিজে ঘরামি হলেও বসবাসের মাত্র একটি ঘর রয়েছে। বাড়িতে নিজস্ব বিদ্যুৎ লাইন নেই। অন্য বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে লেখাপড়ার কাজ চলে। প্রিয়াংকার মা কাঞ্চন গাঙ্গুলী বাড়ির উঠানে শাক-সবজি, হাঁস-মুরগির চাষ করে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করেন। অভারে সংসারে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার বাই সাইকেল চালিয়ে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজে এসে ক্লাস করেছে প্রিয়াংকা।

প্রিয়াংকা নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয় হতে এসএসসি এবং নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত