ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৩৯

প্রিন্ট

তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে

তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই পাবনা জেনারেল হাসপাতালে
পাবনা প্রতিনিধি

তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতাল স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চিকিৎসা সেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মহা দুভোর্গে পড়েছেন হাসপতালে ভর্তি চার শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি কাজ চালানোর জন্য মঙ্গলবার সকালে বিশেষ বিকল্প ব্যবস্থায় আংশিক সংযোগ চালু করা হলেও তা টেকেনি। তবে শিগগিরই পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, পাবনা মেডিকেল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এজন্য এখানে রোগীর চাপও সব সময় বেশি থাকে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪১২জন। এর মধ্যে শিশু বিভাগের মাত্র ৩৮টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে দুই শতাধিক। এছাড়া বহির্বিভাগে মঙ্গলবার চিকিৎসাপত্র দেয়া হয় ৭১০ জন রোগীকে। কিন্ত এত রোগী ভর্তি থাকলেও বিদুতের অভাবে হাসপাতালে এক্স-রে, অপারেশনসহ জরুরি সব চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ না থাকার কারণে পানিও নেই। ভ্যাপসা গরমে এবং অন্ধকারে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী , প্রসূতি, নবজাতকসহ মেডিসিন ও গাইনি বিভাগের এসব রোগীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে রাতের চিত্র আরো ভয়াবহ। রাতে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে এক ভুতুড়ে পরিবেশ। শিশু ও বয়বৃদ্ধদের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। ভ্যাসা গরমে রোগীদের জীবন অতিষ্ঠ। এছাড়া প্রাকৃতিক কাজ সম্পাদনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী এবং তাদের স্বজনদের।

পাবনা জেনোরেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত জানান, রোববার রাতে হঠাৎ করেই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে চালু করার চেষ্টা করা হলেও তাতে সফল হওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগ পাবনা অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম জানান, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ১১ কেভি লাইনের নিজস্ব ট্রান্সফরমার। এই ট্রান্সফরমার থেকে মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া লাইনে ক্রুটি দেখা দেয়ায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আকসাদ আল মাসুর আনন জানান, লাইন মেরামতের জন্য পাবনা বিদ্যুৎ ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আশা করি মঙ্গলবারের মধ্যেই সংযোগ চালু করা যাবে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খন্দকার জানান, সমস্যা শনাক্ত করা গেছে। খুব দ্রুত সংযোগ চালু সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

এদিকে হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নিরাপত্তার অভাবসহ নানা সমস্যার সমামুখীন হচ্ছেন। ইন্টার্ণ চিকিৎসক জয়দেব সুত্রধর ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের অভাবে তারা শিশুদের নেবুলাইজেশন দেয়াসহ জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে পারছেন না। রাতে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে এসব সেবা দিতে না পারায় তারা মানসিকভাবেও কষ্ট পান। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দাবি করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত