ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬

প্রিন্ট

প্রাইমারি স্কুলের পাঠদান বাড়ির আঙিনায়, পরীক্ষা মসজিদে!

প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মসজিদে!
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ, সভ্যজাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর একটি শিশুর শিক্ষাগত অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে তার প্রাথমিক শিক্ষার ওপর। বর্তমান সরকারও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার ওপর। তবে এখনও দেশের বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে বেহাল অবস্থায়।

ঠিক তেমনই একটি বিদ্যালয় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলে পাঠদান চলছে বাড়ির আঙিনায়। আর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে মসজিদে!

সম্প্রতি (২৮ অক্টোবর) শেষ হওয়া ওই বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে। বন্যায় বিদ্যালয়টির স্থাপনা দু’বার ধলেশ্বরীতে তলিয়ে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, নাগরপুরের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালে ধলেশ্বরী নদী প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়ের ভবন গিলে খায়। ২০১৭ সালের বন্যায় দ্বিতীয় দফায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয়ের ভবন। এরপর থেকেই একটি বাড়ির আঙিনায় খোলা আকাশের নিচে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ওই বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন চার শিক্ষক।

একই স্থানে চলে তিন শ্রেণির পাঠদান। ফলে, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী কেউই ভালোভাবে কারও কথা শুনতে পারে না। আর একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের এমন দুরাবস্থার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ছেড়ে দিয়েছেন ২৫শতাংশ জায়গাও। কিন্তু ওই টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট করার কাজ হলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পরই বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। তবে ২০১৭ সালে ভাঙনের পর বিদ্যালয়টি আর নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে দিন দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আজম আলী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে চূড়ান্ত মড়েল টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের আগেই এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ না করা হলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা একেবারেই কমে যাবে।’

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের একটি টিনের ঘর তৈরির জন্য কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্থানীয় কিছু লোক ২৫ শতাংশ জায়গাও দিয়েছে। ওই জায়গায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি অস্থায়ী টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে। নতুন বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষার জন্য নতুন ঘর পাবে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত