ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৯

প্রিন্ট

আড়াই কোটির সড়কের বেহাল দশা!

আড়াই কোটির সড়কের বেহাল দশা!
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদরের কেন্দুয়ায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সোয়া ৪ কিলোমিটার নতুন একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে উক্ত কাজ বাস্তবায়ন করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। গত বুধবার এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের বিনন্দেরপাড়া থেকে নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার ৩০০ মিটার দীর্ঘ কাঁচা রাস্তাটি পাকা ও প্রশস্তকরণের প্রকল্প হাতে নেয় এলজিইডি। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি কাজটি বাস্তবায়ন করতে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের দরপত্র আহ্বান করে জামালপুর এলজিইডি।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিই-এমই-এই (জেভি) জয়েনভেঞ্চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নিন্মদর দাতা নির্বাচিত হন। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চুক্তিতে কাজটি করছেন সাব-ঠিকাদার কামরুল ইসলাম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে না পারায় তারা প্রথম দফায় গত ১৪ জানুয়ারি আবেদন করে সময় বর্ধিত করেন। এরপর দ্বিতীয় দফা নেয়া সময়ও গত ৩০ অক্টোবর শেষ হয়ে গেছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দরপত্রের শর্তানুযায়ী চার ফুট প্রশস্ত এই রাস্তার কাজের মধ্যে ইটের খোয়া আর বালি দিয়ে ছয় ইঞ্চি পুরুত্ব করে ম্যাকাডম কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র তিন থেকে চার ইঞ্চি পুরুত্ব করে নিন্মমানের ইটের খোয়া এবং বালি কম দিয়ে মাটি মিশিয়ে ম্যাকাডম করা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দরপত্রে রাস্তার দুই পাশে তিন ফুট করে মাটি কেটে প্রশস্ত করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। রাস্তার দুই পাশে পুকুর, ডোবা বা ঢালু স্থানে প্যালাসাইটিং নির্মাণের কথা থাকলেও কোথাও তা করা হয়নি। ম্যাকাডম কাজ শেষে প্রায় দেড় বছর ধরে ফেলে রাখায় রাস্তাটির বিভিন্নস্থানে দেবে গেছে এবং গেল বন্যায় রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাস্তার দুই পাশে অনেকস্থানে মাটি ধসে গেছে।

কাজের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট এলজিইডির প্রকৌশলীদের জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, নিন্মমানের ম্যাকাডমের ওপর গত মঙ্গলবার থেকে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন সাব-ঠিকাদারের লোকজন। রাস্তার ওই অবস্থায় কাজ না করার জন্য বাধাঁ দিলে ঠিকাদার তা তোয়াক্কা না করে কাজ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার সকালে রাস্তাটির কয়েকটি স্থানে শাবল দিয়ে ম্যাকাডম খুঁড়ে খুবই নিম্নমানের কাজের নমুনা দেখতে পান। গ্রামবাসী মনে করছে নিম্নমানের ম্যাকাডম কাজের ওপর কার্পেটিং করা হলে রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না। কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ করে নতুন করে রাস্তার ম্যাকাডম কাজ সম্পন্ন করে তারপর কার্পেটিংয়ের কাজ করার দাবি জানান তারা।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রমজান আলী সার্বিক বিষয়ে গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন। তিনি নিজেও নিম্নমানের ম্যাকাডমের অস্তিত্ব পান। একই সাথে তিনি রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ রাখতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে সেখানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক তোতা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, জামালপুর-ঢাকা মহাসড়কের সাথে যুক্ত গ্রামীণ জনপদের পুরনো রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাটি নির্মাণ কাজ খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। এতে রাস্তাটি বেশিদিন টিকবে না। রাস্তাটি নতুন করে ভালোমতো ম্যাকাডম ও কার্পেটিং করে নির্মাণ করা দরকার।

সংশ্লিষ্ট কাজের সাব-ঠিকাদার মো. কামরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাস্তা নির্মাণ কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। গ্রামবাসী যেখানে খারাপের কথা বলছেন প্রয়োজনে সেখানে ম্যাকাডম ঠিক করে দেওয়া হবে।

এলজিইডির জামালপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রমজান আলী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, গ্রামবাসীর ফোন পেয়ে মোল্লাপাড়ায় রাস্তার কাজ দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে বেশ কয়েক স্থানে ম্যাকাডম কাজ নিম্নমানের হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমি ঠিকাদারকে কার্পেটিংয়ের কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।

অপরদিকে এলজিইডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আড়াই লাখ টাকার কাজে দেড় কোটি টাকার বিল নিয়েছেন ঠিকাদার। অবশিষ্ট এক কোটি টাকা দিয়ে পুরো কাজ উঠানো আদৌ সম্ভব কি না এনিয়ে প্রশ্ন তুলে এলজিইডি সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত