ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ আপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৪

প্রিন্ট

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৭ যাত্রীর মৃত্যু

বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৭ যাত্রীর মৃত্যু
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ে ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইকের ৭ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের দুই দম্পত্তি রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ৫ জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দুই জন মারা যান।

শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কের মাগুরমারি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের সুরিভিটা এলাকার আকবর আলী (৭০), তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৫), তেঁতুলিয়া উপজেলা শালবাহান মাঝিপাড়া এলাকার লাবু ইসলাম (২৯), তার নববধূ মুক্তি (১৯), পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের চেকরমারি এলাকার ইজিবাইক চালক রফিক (২৮), একই উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেন মাকুদ (৪৫) ও সাতমেরা ইউনিয়নের সাহেবজোত এলাকার আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস আক্তার (৪২)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে কাজী ব্রাদার্সের একটি যাত্রীবাহী বাস তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। মাগুরমারি এলাকায় একটি ছাগলকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকের মধ্যে থাকা দুই দম্পতিসহ ৫ জন নিহত হন। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুইজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা মারা যান।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে। এই দুর্ঘটনার জন্য তারা হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি ও ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন। পরে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার ইউসুফ আলী ও জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পঞ্চগড় মাগুরমারী এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রীবাহী বাসটি একটি ছাগলকে পাশ কাটাতে গিয়ে ইজিবাইকটিকে ধাক্কা দেয়। ইজিবাইটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ওই অবস্থাতেই ইজিবাইকটিকে প্রায় একশ মিটার ছেচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করি। বাকি দুজনকে পঞ্চগড় হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

ওই এলাকার সাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ। তিনি মহাসড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবি জানান।

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। বাসচালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলেছি। নিহত প্রতি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে তাৎক্ষণিক অর্থসহায়তা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত