ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:২৩

প্রিন্ট

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হবে

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হবে
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে ৫-৭ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

এর জন্য দেশের ৯ জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া চট্টগ্রামসহ উপকূলী পাঁচ জেলায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে কক্সবাজার থাকবে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের আওতার মধ্যে। এসব অঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আব্দুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

যেসব জেলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত: মোংলা ও পায়ার বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত। উপকূলী জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাফি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেত আওতায় থাকবে।

যেসব জেলায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেত: চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৬ নম্বর বিপদ সংকেদ দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলী জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরমসূহ ৬ নম্বর বিপদ সংকেত আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও মুন ফেজ এর প্রভাবে উপকূলী জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্মাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পযন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজন ও গবাদিপশু সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে পারে যেসব এলাকায় সেখানকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ও উপজেলায় এ বিষয়ে সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।’

শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’ সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা, করণীয় ও প্রস্তুতি বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে উপকূলীয় ৭ জেলা— খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়খালী, ভোলা এবং পিরোজপুরে ২ হাজার করে মোট ১৪ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং নগদ ১০ লাখ করে ৭০ লাখ টাকা, ২০০ মেট্রিকটন করে ১৪০০ মেট্রিকটন চাল। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৫ লাখ করে মোট ৩০ লাখ টাকা, ১০০ মেট্রিকটন করে ৬০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত