ঢাকা, সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৩:৫০

প্রিন্ট

প্রতারণার নতুন ফাঁদ সুন্দরী নারী

প্রতারণার নতুন ফাঁদ সুন্দরী নারী
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সদর, রামগতি, কমলনগর, চন্দ্রগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলছে অভিনব কৌশলে প্রতারণা।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরী নারী দিয়ে তৈরি করা হয় ফাঁদ। সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হয় ভুক্তভোগীদের। নারীরা নিজেদের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার কখনো ব্যবসায়ী-শিল্পপতির মেয়ে-ভাগ্নি দাবি করে। চলাফেরাও করে দামি গাড়িতে। পোশাকে, চলনে থাকে আভিজাত্যের ছাপ। তাদের টার্গেট বিত্তশালীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা প্রথমে সখ্য গড়ে তোলে। মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে উত্তেজক কথা বলে। বশে আনার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। লোভ দেখানো হয় একান্ত আপন করে পাবার। আয়োজন করা হয় ঘরোয়া পার্টির। আমন্ত্রণ জানানো হয় টার্গেট করা ব্যক্তিদের। সেখানে ইয়াবা, মদের আসর বসানো হয়। টার্গেট করা ব্যক্তিকে নেশার জালে ফেলে তারা তাদের প্রকৃত পরিচয় দেয়।

মূলত তারা প্রতারক চক্র। একজন নয় একাধিক নারী-পুরুষ এসব প্রতারক চক্রে কাজ করে। নেশায় মত্ত থাকা পুরুষদের বিবস্ত্র করে ছবি তোলে। এমনকি চক্রের নারী সদস্যরাও বিবস্ত্র হয়। বিছানায় নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে। অনেক সময় গোপন ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করা হয়। ধারণ করা এসব ভিডিও, ছবি দেখিয়ে পরে ভুক্তভোগীর সঙ্গে করা হয় নানা প্রতারণা। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রায়পুর বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী, মাছ ব্যবসায়ী, গার্মেন্টস, পাইকারি ও স্বর্ণকার ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বিষয়গুলো অবহিত করেন। পরিবার ও সামাজিক মর্যাদার ভয়ে তারা ঐসব প্রতারকদের কাছে নিঃস্ব হয়েও মুখ খুলছেন না।

সর্বশান্ত এমন কয়েকজন এ প্রতিনিধির কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে মুখ খুলেছেন।

লক্ষ্মীপুরে গেল বছর অভিযান চালিয়ে এরকম একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব।

জেলা গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে একটি চক্র সমাজের ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী লোকদের টার্গেট করে প্রতারণা করে আসছে এমন অভিযোগ উঠেছে। নারী দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে অনেককে করেছে সর্বশান্ত। গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রতারক চক্রের কাছে থাকায় মান সম্মানের ভয়ে মুখ খুলে তারা কাউকে কিছু বলতে পারছিলো না। আবার অন্যদিকে দিনের পর দিন প্রতারক চক্রকে টাকা দিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত