ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১৫

প্রিন্ট

মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর আহত ৩

মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর আহত ৩
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের শাহমিরান আলিম মাদ্রাসাতে সোমবার সকালে চিহ্নিত বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অর্তকিতভাবে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও ৩ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করে। মূহুর্তের মধ্যে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান খানের পদত্যাগ দাবিতে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিষ্ঠানের মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।

সূত্র জানায়, উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউপির শাহমিরান আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষকের পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এ.টি.এম আবদুল্লাহ ভুইয়ার সাথে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান খানের বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান খান রোববার (১ ডিসেম্বর) ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডেকে সরকারি নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করেই অধ্যক্ষকে একই সাথে শোকজ নোটিস ও সাময়িক বহিস্কার করে এবং ‌জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে তড়িঘড়ি করে প্রভাষক নাজমুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন।

বিদ্যালয়ের এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার সকালে শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করে প্রতিষ্ঠানের মাঠে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ দায়িত্ব পাওয়া অধ্যক্ষ নাজমুল আলম মুঠোফোনে সভাপতি নুরুজ্জামান খানকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সভাপতি নুরুজ্জামান তার ভাতিজা পুটুন-মামুনের নেতৃত্বে বহিরাহত সন্তাসী গ্রুপকে হামলা করার নির্দেশ দেয়। এতে করে পুটুন-মামুনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী গ্রুপ অতর্কিতভাবে মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

হামলায় আন্দোলরত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ উল্যাহ, সাকিল হোসেন গুরুতর আহত হয়।

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, রোববার প্রতিষ্ঠানে কোন সভা না করেই কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে অধ্যক্ষের হাতে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কারপত্র এবং প্রভাষক নাজমুল আলমের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কপি তুলে দেন।

অধ্যক্ষ এ.টি.এম আবদুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির খামখেয়ালিপনা এবং বিধির বিরুদ্ধে কাজ না করায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে একই সময় শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার পত্র হাতে ধরিয়ে দেয়।

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, বিগত ১০ বছরে আর্থিক হিসাব না দেওয়া এবং আরবি প্রভাষক আব্দুস ছাত্তারের পদোন্নতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় অধ্যক্ষকে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। অধ্যক্ষকে বহিস্কার করায় তার অনুগত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করায় আমার ভাইপোরা গিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে বলে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ হুমায়ুন রশিদ বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারে নির্দেশে আমি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামুখী করাই। তবে সভাপতি কোন ক্ষমতার বলে একই সাথে অধ্যক্ষকে শোকজ ও সাময়িক বহিস্কার করছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত