ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪৩

প্রিন্ট

শিশুখাদ্যে খেলনা দিলে ব্যবস্থা

শিশুখাদ্যে খেলনা দিলে ব্যবস্থা
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন শিশু খাদ্যপণ্যে আকৃষ্ট করার জন্য প্লাস্টিকের খেলনা বা স্টিকার দেয়ার প্রচলন রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হলেও সম্প্রতি হাইকোর্টের এক নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এসবের ব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

বিএসটিআই’র সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এসব পণ্য বাজার থেকে অপসারণ না করা হলে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএসটিআই থেকে সার্টিফিকেশন মার্কস লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্যে চিপসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে আকর্ষণীয় প্রমোশনাল আইটেম (খেলনা, স্টিকার ইত্যাদি) ব্যবহার করে বাজারজাত করছে।

এসব খেলনার ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এতে একদিকে যেমন খাদ্য দূষণের সুযোগ থাকে, অন্যদিকে পণ্যমানের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া শিশু যদি অসচেতনভাবে খেলনা মুখে দেয় বা খেয়ে ফেলে তাহলে তা তার মৃত্যুঝুঁকিরও কারণ হতে পারে।

‘এমতাবস্থায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত বাজারজাতকৃত চিপসসহ শিশুখাদ্য পণ্যের প্যাকেটে প্রমোশনাল আইটেম (খেলনা, স্টিকার ইত্যাদি) ব্যবহার বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

জনস্বার্থে জারিকৃত বিষয়টি জরুরি উল্লেখ করে বিএসটিআই মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠান চিপসসহ শিশুখাদ্য পণ্যের প্যাকেটে এ ধরনের সামগ্রী দিচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে নিজ দায়িত্বে ঐসব পণ্য বাজার থেকে দ্রুত প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম একরামুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, চিপসের প্যাকেটে ছোট ছোট খেলনা দেওয়া থাকে। আর বাচ্চারা তা প্রায়ই মুখে নেয়। অনেক সময় বাচ্চা তা গিলে ফেলে। আসলে তা শ্বাসনালিতে চলে যায়। ফলে বাচ্চার খুব শ্বাসকষ্ট হয়। যদি খেলনাটা বড় হয় তাতে মৃত্যুঝুঁকিও থাকে।

খেলনার মধ্যে গাড়ির চাকা হলে খুব ভয়ংকর বলে জানান এ কে এম একরামুল হক। তিনি আরও বলেন, ‘প্যাকেটের সঙ্গে বাঁশি দেওয়া হয় বেশি। যেটা ফুঁ দিয়ে বাজানো যায়, আবার টান দিয়েও বাজানো যায়। বাচ্চারা যদি টান দিয়ে বাজায়, তাহলে তা ভেতরে গিয়ে শ্বাসনালিতে আটকে যায়। এই রকমের অনেক শিশু পাই আমরা। বিদেশে এসবের ব্যাপারে সতর্কীকরণ বাণী থাকে। এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। দেরি হলেও এটা খুব ভালো কাজ হয়েছে। সবাই সতর্ক হলে আমাদের বাচ্চারা নিরাপদে থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি নির্দেশ পত্রিকায় দেখতে পেয়েছি। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

বিএসটিআই’র এক কর্মকর্তা বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি মাথায় নিয়ে শিশুদের জন্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাবার নিশ্চয়তার জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারণ, খাবার প্যাকেট করার সময় হয়তো ওই খেলনাগুলো আলাদা করে ঢোকানো হয়। এতে খাবারের মানেরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়ে যায়। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে মৌখিক নির্দেশনার পর লিখিত নির্দেশনা দেয়া হলো। তবে প্রয়োজনে তারা আলাদা প্যাকেটে খেলনাগুলো সংযুক্ত করতে পারে। কিন্তু খাদ্যপণ্যের ভেতরে দেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত