ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৪

প্রিন্ট

লন্ডনে ২য় ভাষা বাংলা: সংবাদের সত্যতা কতটুকু?

লন্ডনে ২য় ভাষা বাংলা: সংবাদের সত্যতা কতটুকু?
জার্নাল ডেস্ক

‘লন্ডনে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা পেয়েছে বাংলা’ সম্প্রতি এমন খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রথম শ্রেণির বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে।

সিটি লিট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপের বরাত দিয়ে প্রথমে খবরটি প্রকাশ করে ভারতের একটি গণমাধ্যম। সেখান থেকেই বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। জরিপের কথা উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়েছে, লন্ডনে সবচেয়ে বেশি মানুষ ইংরেজিতে কথা বলেন, এরপরই বাংলা, তারপর রয়েছে পোলিশ ও তুর্কি ভাষা।

লন্ডনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শহরে ইংরেজির পর কোন ভাষায় বাসিন্দারা বেশি কথা বলেন, সেটা জানতে এই জরিপ চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সেখানে দাবি করা হয়, লন্ডনের ৭১ হাজার ৬০৯ জন মানুষ তাদের প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলায় কথা বলেন। লন্ডনের ক্যামডেনের ৩ শতাংশ, নিউহ্যামের ৭ শতাংশ এবং টাওয়ার হ্যামলেটের ১৮ শতাংশ বাসিন্দার প্রধান ভাষা বাংলা।

এই জরিপ প্রসঙ্গে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার সাংবাদিক আশিকুন্নবী চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, সিটি লিট নামে যে প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত শিক্ষা নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আমি নিজে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমার মেইলের কোনো জবাব এখনো দেয়নি। রিপোর্টটির অনেক তথ্যই সঠিক নয়। সরকারি হিসেবে লন্ডনে সাড়ে ৫ লাখের মতো সিলেটের মানুষ বসবাস করেন। তারা কোন ভাষায় কথা বলেন? এটা কয়েকবছর আগের হিসাব৷ নতুন হিসেবে সেখানে ‘বাংলাদেশি’ অনেক বেশি। এর বাইরে ভারতেরও বাংলা ভাষাভাষী মানুষ সেখানে আছেন। ফলে যে প্রায় ৭২ হাজার মানুষের কথা বলা হচ্ছে, সেটা কিভাবে ঠিক হয়? আর স্বীকৃতি তো কাউকে না কাউকে দিতে হবে। লন্ডনের সরকারের তরফ থেকে এমন কোনো স্বীকৃতির খবর আমাদের হাইকমিশনে কেউ জানাননি।

তবে খবরটি যে সত্য নয় তা ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট ‘লজিক্যাল ইন্ডিয়ান’ও তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে।

‘লন্ডনে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা পেল বাংলা ভাষা’ গত ৩ ডিসেম্বর ফেসবুকে পোস্টটি দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সেখানে লন্ডনে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলার সরকারিভাবে মর্যাদা পাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমি অনেক জায়গায় খবরটি দেখেছি৷ ভালো লাগা থেকে পোস্টটি শেয়ার করেছি, অন্য কিছু নয়।’

মন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট অনেকেই শেয়ার করছেন। এভাবে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে বিভ্রান্তির কিছু নেই। খবরটি যদি সত্যি না হয়, তাহলে আমি আরেকটি পোস্ট দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দেবো। তবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি না পেলেও লন্ডনে যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ বাংলায় কথা বলেন, এটা সত্য। আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন তথ্য পেয়েছি।’

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত