ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৩৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৫

প্রিন্ট

ব্রিজ নির্মাণে ‘বল্লি পাইলিং’ নিয়ে নয়ছয়

ব্রিজ নির্মাণে ‘বল্লি পাইলিং’ নিয়ে নয়ছয়
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া দোলার উপর একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ‘বল্লি পাইলিং’র ডিজাইন করে দেয় প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার)। ওই ডিজাইনের আলোকে দরপত্র ও অর্থ বরাদ্দ দেয়া ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেই ডিজাইন মানছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পিআইও কর্মকর্তা ‘বল্লি পাইলিং’ ছাড়াই ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর আলী। ‘বল্লি পাইলিং’ না দিলে সেই খরচ ঠিকাদারকে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, ওই উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগ সচল রাখতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের উপর ৭টি ব্রিজ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দরপত্রের মাধ্যমে এসব ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুল হক। যার প্রেক্ষিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন ঠিকাদাররা। এর মধ্যে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়ায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪ শ টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পান গোলাম রব্বানী সোহেল নামে এক ঠিকাদার। কিন্তু ব্রিজটি কমিশনে কিনে নির্মাণকাজ শুরু করেন শামীম আলম নামে স্থানীয় আরেক ঠিকাদার। ব্রিজের স্থায়িত্ব রক্ষার ‘বল্লি পাইলিং’ না করেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল হকের নিদের্শে সিসি ঢালাই শেষ করেন ঠিকাদার।

ফলে ব্রিজটি সামান্য স্রোতেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ব্রিজের সিসি ঢালাই কাজে আকারে বড় ও মৃত পাথর ব্যবহারের অভিযোগে সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনসুর আলী। এ ছাড়া বাকি ৬টি ব্রিজের নির্মাণকাজ মাত্র শুরু হলেও করা হচ্ছে না ‘বল্লি পাইলিং’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ২৯ লাখ টাকার একটি ব্রিজ বল্লি পাইলিংয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কাজ যতটুকু হবে বিল ততটুকুই পাব। পাইলিং না করলে সেই অংশের বিল ঠিকাদারকে দেয়া হয় না। সেই টাকা কোথায় যাবে তা অফিস ভালো জানে।

তিনি বলেন, কার্যাদেশে ‘বল্লি পাইলিং’ ধরা থাকলেও বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা করা হচ্ছে না। পাইলিং ছাড়া ব্রিজের স্থায়িত্ব কতটুকু সেটা প্রকৌশলীরা ভালো বলতে পারবেন। প্রয়োজন না থাকলে কার্যাদেশে উল্লেখ করে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলো কেনো?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল হক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মাটির গুণাগুণ ভালো থাকায় বল্লি পাইলিং দেয়া হয়নি, যার অর্থ ফেরত দেয়া হবে। তবে ওই ব্রিজ নির্মাণে ব্যবহৃত নিম্নমানের পাথর অপসারণ করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণকাজের এস্টিমেট (হিসাব) ইউএনওর নির্দেশ ছাড়া কাউকে দেখানো যাবে না। যেসব ব্রিজে বল্লি পাইলিং প্রয়োজন নেই সেখানে দেওয়া হবে না এবং এর জন্য বরাদ্দ অর্থ ফেরত পাঠানো হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর আলী বলেন, পাথর সমস্যার কারণে একটি ব্রিজ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বল্লি পাইলিংয়ের বিষয়টি জানা নেই। তবে এস্টিমেট অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি প্রকৌশলী মনে করেন বল্লি পাইলিংয়ের প্রয়োজন নেই, তবে সেই অর্থ ফেরত দিতে প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারের কাছে চুক্তিনামা করে নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত