ঢাকা, রোববার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১ মিনিট আগে

ধর্ষণের পর খুন হওয়া কিশোরী জীবিত উদ্ধার, সেই এসআই প্রত্যাহার

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২০, ১২:৪৯

ধর্ষণের পর খুন হওয়া কিশোরী জীবিত উদ্ধার, সেই এসআই প্রত্যাহার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে তিন আসামির জবানবন্দি নেয়ার দেড় মাস পর মৃত কিশোরী জীবিত উদ্ধারের ঘটনার মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম আল মামুনকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলমের নির্দেশে এসআই শামীমকে সদর মডেল থানা থেকে মাসদাইর পুলিশ লাইনে নিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে এসপি জায়েদুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার (২৬ আগস্ট) এসআই শামীমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মঙ্গলবার রাতেই তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড (সংযুক্ত) করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, স্কুলছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে। একটি হলো আসামিরা হত্যা ও গণধর্ষণ না করেও কেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন ও কীভাবে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিলেন। এ ঘটনায় গঠিত দুইটি কমিটি তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ খবর নেন। পাশাপাশি তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন কর্মকর্তারা।

এছাড়া নতুন করে মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হাইকে। এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হাই বলেন, আজকেই আমি সব নথিপত্র পেয়েছি। তদন্ত শেষেই বিস্তারিত বলা যাবে।

অন্যদিকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ও নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) কে এম মোশারফ হোসেন এসআই শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। কিন্তু মামলাটি তদন্ত করবেন পরিদর্শক আব্দুল হাই। আর এ বিষয়ে আমরা তাকে সহযোগিতা করব।

তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসামির স্বজনদের তোলা অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি আসামির স্বজনরা অভিযোগ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন; ভয়ভীতি দেখিয়ে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছেন আসামিদের। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আসামির স্বজনরা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেননি। এরপরও প্রত্যেকটি অভিযোগ নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখব আমরা। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।

নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ৪৯ দিন পর ফিরে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গণধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সঙ্গে আত্মগোপনে থাকা কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

‘পুলিশি নির্যাতনে গণধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন তিন যুবক’ এমন অভিযোগ স্বজনদের। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলা পুনরায় তদন্তের জন্য সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হাইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্কুলছাত্রীর মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। এরপর বিকেলে আদালতে ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার স্কুলছাত্রী গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ১৭ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন স্কুলছাত্রীর বাবা। এক মাস পর ৬ আগস্ট একই থানায় স্কুলছাত্রীর বাবা অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বন্দর উপজেলার বুরুন্ডি খলিলনগর এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও তার বন্ধু বুরুন্ডি পশ্চিমপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে রকিবকে (১৯)। ওই দিনই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় দুদিন পর গ্রেপ্তার করা হয় বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা নৌকার মাঝি খলিলকে (৩৬)।

গত ৯ আগস্ট পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয় আসামিরা। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অথচ ২৩ আগস্ট দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে। সে নিজে তার মাকে একটি ফোন ফ্যাক্সের দোকান থেকে কল করে চার হাজার টাকা চায়! বাবা-মা এতে অবাক হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তারা থানায় হাজির হন। তাদের সঙ্গে ছিল কিশোরীর স্বামী ইব্রাহিম। তাকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেয়া জবানবন্দিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত