ঢাকা, শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:২৬

প্রিন্ট

নড়াইলে লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ

নড়াইলে লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ
নড়াইলে লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ

শরিফুল ইসলাম, নড়াইল

‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো, একুশের আলোয় বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবর্ষ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে লাখো মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যদিয়ে নড়াইলবাসী স্মরণ করলো ৫২’র ভাষা শহীদদের।

প্রতিবছরের মত এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারি (রোববার) সন্ধ্যায় শহরের কুড়িরডোব মাঠে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠানের। এ সময় ৭০টি ফানুস ওড়ানো হয়।

একুশের আলো নড়াইলের আয়োজনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, নড়াইল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রেজাউল বিশ্বাস, নব নির্বাচিত মেয়র আঞ্জুমান আরা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট অচিন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ

শুরুর কথা: বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি খন্দকার শাহেদ আলী শান্ত বলেন, ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সর্ব প্রথম স্থানীয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে মোমবাতি প্রজ্বলন কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমদিকে উদ্যোগ নেয়া হয় ভাষা শহীদদের স্মরণ করার জন্য বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি সংসদের সদস্যদের নিজ নিজ বাড়ি এবং স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালানোর মধ্যদিয়ে। এভাবে দুই বছর চলার পর প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান, বর্তমান নাট্য ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার, খন্দকার শাহেদ আলী শান্তসহ স্থানীয়রা এ অনুষ্ঠান কুড়িরডোব মাঠে করার সিদ্ধান্ত নেয়। গঠন করা হয় একুশ উদযাপন পর্ষদ। এ উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে শহরের কুড়িরডোব মাঠে প্রথমে দুই হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু করে।

বর্তমান অবস্থা: ১৯৯৯ সালে প্রেয়াত চিত্রশিল্পী কাজল মুখার্জীর আঁকা আল্পনার মধ্যদিয়ে কুড়িরডোব মাঠে দুই হাজার মোমবাতি নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও হাটিহাটি পা পা করে প্রতি বছরই বৃদ্ধি পেতে থাকে মোমবাতির সংখ্যা। এর সাথে যোগ হয় মাটির তৈরি প্রদীপ। গত বছর ৫০ সহস্রাধিক প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালানো হয়। এর সংখ্যা প্রতিবছর বৃদ্ধি পেতে পেতে এখন থেকে প্রতি বছর জ্বালানো হয় প্রায় এক লাখ।

লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ

যেভাবে সাজানো হয় মাঠ: ভাষা শহীদদের স্মরণে মাঠকে সাজানোর কাজ শুরু হয় সকাল থেকে। মাঠের চারি পাশে ঘিরে রাখা হয় বাঁশ এবং রশি দিয়ে। মাঠে বিভিন্ন ধরনের আল্পনা এঁকে তার উপর মাটি ছিদ্র করে মোমবাতি সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়। স্থানীয় যুবকরা কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়ায় নিজ নিজ উদ্যোগে এ কাজ তারা করে থাকে প্রতিবছর। সাজিয়ে রাখা প্রদীপে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্বলন শুরু করা হলে স্বেচ্ছা সেবকরা চারপাশ থেকে জ্বালানো শুরু করে। চলে দেশাত্ববোধক গান। এ সময় শহরের বিদ্যুৎ প্রায় এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়।

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া: দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত দর্শকরা প্রতিবছরের মত এ বছরও এ দৃশ্য দেখে তাদের নয়ন ভরে যায়।

খুলনা থেকে আগত কলেজছাত্রী লামিয়া জানান, নড়াইলের দ্বীপশিখা প্রজ্বলনের এ দৃশ্য না দেখে দূরে থাকলে জীবন থেকে অনেক বড়কিছু একটা হারিয়ে গেছে বলে মনে হতো। তাই দেখতে এসেছি।

কলেজ ছাত্রী সংযুক্তা বলেন, এখানের দ্বীপশিখা প্রজ্বলনের কথা শুনেছি এ বছর প্রথম দেখলাম। আগামীতে আবার আসবো।

মাগুরা থেকে আগত ফরহাদ হোসেন জানান, যেখানে থাকি না কেন প্রতিবছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নড়াইলে চলে আসি মোমবাতি প্রজ্বলনের দৃশ্য দেখার জন্য।

সাতক্ষিরা থেকে আগত মেহেদী হাসান জানান, নড়াইলের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রদীপ প্রজ্বলন একটি সুন্দর অনুষ্ঠান যা আমার অত্যন্ত ভালো লাগছে।

লাখো মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ

আয়োজক: একুশের আলো নড়াইলের সভাপতি প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আমরা এ অনুষ্ঠানটি করে আসছি। নড়াইলের সর্বস্তরের মানুষ আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকে।

সাধারণ সম্পাদক নাট্য ব্যক্তিত্ব কচি খন্দকার বলেন, অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসার প্রথম ধাপ ভাষা আন্দোলন। আমরা মনে করি এখনো পৃথিবী থেকে সকল অন্ধকার দূর হয়নি তাই আমরা নড়াইলের দীপশিখা প্রজ্বলনের মধ্যদিয়ে সকল জড়তা এবং অন্ধকারকে দূর করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি আরো বলেন, দীপশিখা প্রজ্বলনের অনুষ্ঠানটি একদিন আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান হবে বলে আমার বিশ্বাস। এ রকম একটি অনুষ্ঠান সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের অনুষ্ঠান নয় নড়াইল বাসীর অনুষ্ঠান।

আইন শৃঙ্খলা: পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দীপশিখা প্রজ্বলন অনুষ্ঠান নড়াইল বাসীর প্রাণের অনুষ্ঠান। আমরাও এ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করি। এ অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করা জন্য আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই সার্বিক সহযোগিতা করা হয়ে থেকে। আজও এ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত