ঢাকা, বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে

সহকারী শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে কোণঠাসা খোদ শিক্ষা কর্মকর্তা

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২২, ১০:৪২

সহকারী শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে কোণঠাসা খোদ শিক্ষা কর্মকর্তা
অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান ফরহাদ। ছবি- প্রতিনিধি
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক সহকারী শিক্ষক নিজের তৈরী করা সিডিউলে বিদ্যালয় পরিদর্শনে শিক্ষা কর্মকর্তাকে বাধ্য করাসহ নানা ইস্যুতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। বদলির হুমকি, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের জায়গায় বদলী, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। নিজের আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে নানাভাবে শিক্ষকদের জিম্মি করছেন।

এদিকে ওই শিক্ষকের ধৃষ্টতা নিয়ন্ত্রণ না হলে একযোগে স্বেচ্ছায় বদলী আবেদনের পূর্ন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। ১৪৭ জন প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে এসবের লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান ফরহাদ। তিনি তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

শ্রীপুর উপজেলার ১৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সকল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ থেকে এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লুৎফর রহমান ফরহাদ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঝাউয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ২০১৮ সালে তাকে প্রশাসনিক কারণে শ্রীপুর থেকে সেখানে বদলি করা হয়। পরে ২০১৯ সালের আগস্টে আবার শ্রীপুরে সংযুক্তি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়ে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ে যোগদান করেন। শিক্ষকদের নানা ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে ভয়-ভীতির মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষক প্রশাসনে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদেরকে নানা অজুহাতে বদলি করার ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। অতি সম্প্রতি সে নিজের উদ্যোগে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন সম্বলিত ছবি সংযোজন ও গাছের চারা রোপনের ঘোষণা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহল ও উপজেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো নির্দেশনা না থাকায় শিক্ষকগণ বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন। ব্যাক্তিগত ভাবমূর্তির প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এসব কার্যক্রম সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। ওই শিক্ষক পাঠদানে অনিয়মিত থেকে উপজেলার গোটা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছেন। এতে উপজেলার সার্বিক মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক লুৎফর রহমান ফরহাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছেন। একাধিকবার তার বেধে দেয়া ছক অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিদর্শনের তাগিদ দেন। তার বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাগণ পরিদর্শনে গেলে “তাকে না জানিয়ে কোনো কর্মকর্তা বিগত দিনে তার বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসেননি” বলে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের ধৃষ্টতা নিয়ন্ত্রণ না হলে একযোগে স্বেচ্ছায় বদলি আবেদনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকুরীবিধি বহির্ভূত আচরণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কমটিরি সভা থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেয় হয় বলেও জানান তিনি।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ১৪৭ জন প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ আমি পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক লুৎফর রহমান ফরহাদ জানান, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আমার ডিপার্টমেন্টে দিবে। ডিপার্টমেন্ট থেকে আমার কাছে শোকজ অসাবে, চিঠি আসবে, নোটিশ আসবে। আপনি আমাকে এসব জিজ্ঞাসা করতে পারেন না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত