ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০৯:৩২

প্রিন্ট

ধর্ষণ মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা

ধর্ষণ মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা
প্রতীকী ছবি
সিলেট প্রতিনিধি

সিলেট নগরের বনকলাপাড়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নেবার অভিযোগে দুদু খান নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় জনতা।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নগরের বন কলাপাড়া পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, নিহত দুদু খান এক সময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, স্থানীয় কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের অনুসারী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বন কলাপাড়া এলাকার শাহ রুমি মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এ ঘোষণা শুনে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বন কলাপাগড়ার গোলাপ পয়েন্টে দুদুকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের মধ্যে দুদুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মাথা, বুক ও চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এসময় মরদেহের হাতে একটি দা ছিলো।

এলাকাবাসী জানান, নিহত দুদুর বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গত পহেলা বৈশাখের পরের দিন বন কলাপাড়ায় সংঘটিত একটি ধর্ষণ মামলার আসামি দুদু। তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী ও কাউন্সিলরের লোক হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিতেন বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খাঁন জানান, দুদুর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। সে কখনও আমার সঙ্গে ছিল না।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, বন কলাপাড়া থেকে দুদু নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুদুর বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪-৫টি মামলা রয়েছে।

তবে দুদু খানের ভাই কলাপাড়া পয়েন্টে নিউ সাদিয়া টেলিকমের মালিক হাসেম খান বলেন, ‌‌পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এতে জামায়াত কর্মী রিপন, ছাত্রদল ক্যাডার ও একাধিক মামলার আসামি শাহ আলম, কালা জামাল, বেলাল আহমদ ও আওয়ামী লীগ কর্মী মনু জড়িত।

তারা দুদু খানকে হত্যার আগে আমরা চার ভাইয়ের ও আমার এক খালার পীরমহল্লার বাসায় ও আমার নিউ সাদিয়া টেলিকম নামের দোকানে হামলা করে ভাঙচুর করে। পরে দুদু খানকে রাস্তায় পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করার পর মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকাত পড়েছে মিথ্যা বলে জনতাকে জড়ো করে।

হাসেম খান আরও বলেন, আমার ভাই এক সময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি, স্থানীয় কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের অনুসারী ছিল। তবে বছর খানেক আগে আফতাব হোসেনের সঙ্গে বিরোধ হলে তারা আমাদের বাসায় হামলা করে।

ওই সময় হামলায় আমরা ৬ ভাইয়ের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ হই। এরপর থেকে আফতাবের সঙ্গে দুদুর সম্পর্ক ভালো ছিল না। আজ তারা ছাত্রদল, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সবাই মিলে ভাইটারে মেরে ফেলল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি
  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত