ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ অাপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ১০:২৪

প্রিন্ট

বিলুপ্ত প্রজাতির ৪ গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার

বিলুপ্ত প্রজাতির ৪ গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে বিলুপ্ত প্রজাতির ৪টি গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। পরে তা গোপালগঞ্জ বন বিভাগের কাছে তুলে দেয়া হয়। বুধবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ঘোষেরচর মধ্যপাড়া থেকে ওইসব মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, সদর উপজেলার ঘোষেরচর মধ্যপাড়া গ্রামের একটি তাল গাছে ভিন্ন সুরের প্রাণীর ডাক শুনতে পায় অপুর্ব দাসসহ কয়েকজন কিশোর। পরে ৫/৬ জন বন্ধু মিলে ওই তাল গাছ থেকে ৪টি গন্ধগোকুলের বাচ্চাকে নিচে নামিয়ে আনে।

এ সময় প্রাণীগুলোকে দেখার জন্য স্থানীয়রা ভীড় জমায়। পরে সংবাদ পেয়ে গোপালগঞ্জ বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারটি গন্ধগোকুলের বাচ্চা উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

কিশোর অপূর্ব দাস বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, আমরা ঘোষেরচর মধ্যপাড়ার একটি সরকারি হালটের কাছে খেলতে ছিলাম। এসময় একটি তালগাছের উপর থেকে ভিন্ন সুরের ডাক শুনতে পাই। পরে কয়েকজন বন্ধু মিলে তাল গাছে উঠে ওই প্রাণী ৪টিকে নামিয়ে নিয়ে আসি।

বয়োবৃদ্ধ রহিম মুন্সী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এক সময় গ্রামে গন্ধগোকুলের দেখা মিলত। কিন্তু এখন বন-জঙ্গল না থাকায় গন্ধগোকুল তেমন একটা চোখে পড়ে না। মাঝে মধ্যে দু-একটা গন্ধগোকুলের দেখা মেলে।

গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর আলম খান বাংলাদেশ জার্নালকে জানান, উদ্ধার হওয়ায় প্রাণীগুলো গন্ধগোকুল বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে খুলনা বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশ দেবার পর বনে অবমুক্ত করা হবে।

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দূযোর্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. এম.এ সত্তার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, গন্ধগোকুল বিলুপ্তি হবার অন্যতম কারণ হল, বন জঙ্গল কেটে ফেলার সাথে সাথে খাবার সংকট ও বংশ বৃদ্ধি করার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকা। সেই সাথে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ ও এদেরকে নির্বিচারে হত্যা করাও কমে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ। তবে বন জঙ্গল বৃদ্ধি করা এবং কীটনাশক প্রয়োগ আর হত্যা বন্ধের সাথে সাথে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্ট করা গেলে বিলুপ্ত প্রজাতির এসব প্রাণী আবারো ফিরিয়ে আনো সম্ভব।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিপিবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close