ঢাকা, শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

নেশার টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাত‌নের অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৮:২৬

নেশার টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাত‌নের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরী পাড়া এলাকায় নেশার টাকার দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ভুক্ত‌ভোগী ওই নারী বাদী হয়ে স্বামী যোবায়ের হোসে‌নের (৩৭) বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় নারী শিশু নির্যান ও যৌতুক আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থেকে যোবায়ের পলাতক রয়েছেন।

১৭ বছরের সংসারে বিয়ের পর থেকেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে নির্যাতিত ওই নারী বলেন, পাঁচ বছর প্রেমের পর ২০০৫ সালে বিয়ে। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বেকার। আমি অনলাইনে একটি ছোট ব্যবসা করে বাচ্চাদের নিয়ে কোনো মতে বেঁচে আছি। সে মাদকাসক্ত হওয়ায় ২০১২ সাল থেকে চাকরি করত না। ২০১৫ সালে বিদেশে গিয়েছিল। সেখানে অনেক টাকা নষ্ট করে দেশে ফিরে আসে।

নেশার টাকার জন্য প্রায়ই আমাকে নির্যাতন করতো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর আবারও টাকা দাবি করে। দিতে না পারায় প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে। জীবন বাঁচাতে কাকুতি মিনতি করার পরে ছাড়ে নাই। পরে আমার বড় ছেলে রশি কেটে দেয়।

সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর সামান‌্য একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এরপর বাইরে থেকে নেশা করে এসে আমাকে বাচ্চার স্কুটির স্ট্যান্ড দিয়ে রাতভর নির্যাতন করে। আমার শরীরের এমন কোনো স্থান নেই যে নির্যাতন করেনি। আমি জীবন বাঁচাতে আমার তিন বাচ্চাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাই।

লায়লা আরও বলেন, আমার স্বামীর হাতে এমন নির্যাতনের বিষয়টি তারা বাবা মা জানার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই আমি বাধ্য হয়ে বুধবার মামলা ক‌রে‌ছি।

স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে বাচ্চারাও রক্ষা পায়নি উল্লেখ করে লায়লা বলেন, কিছু হলেই আমার বাচ্চাদেরও নির্যাতন করতো। এমন কি আমার ছোট ছোট তিন বাচ্চার সামনেই আমাকে নির্মম নির্যাতন করা হতো। আমার বড় ছেলের বয়স ১২ বছর, মেঝো ছেলের বয়স ৮ বছর আর ছোট মেয়ের বয়স ৪ বছর। বাচ্চাদের খেলার ব্যাট, লাঠি, রশি দিয়ে নির্যাতন করা হত। টাকার জন্য বেশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অক্টোবরের ২ তারিখের ঘটনায় ৫ তারিখ মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তি‌নি বলেন, ২ তারিখ রাতের ঘটনা। পরের দিন ৩ তারিখ সকালে আমি থানায় গেলে পুলিশ আমার কোনো কথা শোনেনি। পরে আমার বোনের সহযোগীতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। এরপর আবারও থানায় ‌গি‌য়ে লিখিত অভিযোগ দেই। ওসি থানায় না থাকায় মামলায় স্বাক্ষর হয়নি। বুধবার মামলায় গ্রহণ করেছে থানা।

জীবন বাঁচাতে লায়লা ও তার সন্তানদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে লায়লা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কিন্তু এভাবে বাঁচতে পারবো না। আমাকে যেকোনো সময়ে মেরে ফেলবে। তাই আমার বাচ্চাদের নিরাপত্তার জন্য সবার সহযোগীতা চাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এএসআই মো. ফয়সাল রেজা বলেন, শারীরিকভাবে নির্যাতনের একটি অভিযোগ করেছেন বাদী। এরপর আমরা আইন অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবো। পাশাপাশি নির্যাতনকারী ও বাদীর স্বামীকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সুজন/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত