ঢাকা, সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৮

প্রিন্ট

ধানে অনাগ্রহ, তামাক চাষ অধিক মাত্রায়

ধানে অনাগ্রহ, তামাক চাষ অধিক মাত্রায়
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় অধিক মাত্রায় তামাক চাষের কারণে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খরচ বেশি হওয়ায় চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় বোরো ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে তামাক চাষেই ঝুকেছে বেশি কৃষক।

উৎপাদন খরচ বেশি ও ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও ক্ষতিকর তামাক চাষ নিয়ে কোন অভিযোগ না থাকায় অব্যাহত তামাক চাষ বৃদ্ধি এবছর মাত্রা ছাড়িয়েছে। ফলে এবারে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হতে পারে।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, তামাক চাষের কারণে বোরো আবাদের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৩২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও এ পর্যন্ত কৃষকরা বোরো ধান বপন করেছেন ১০ হাজার হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের কম।

বিপরীতে তামাক অধ্যুষিত কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে ক্ষতিকর তামাক চাষ হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে। এর মধ্যে দৌলতপুর উপজেলাতেই প্রায় অর্ধেক।

বোরো ধান চাষে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে চাষিদের লাভ হয় কম। আবার ধানের দাম কম হওয়ায় লাভের পরিবর্তে অনেক সময় তাদের লোকসানও গুনতে হয়। তাই তারা লাভজনক অর্থকরী ফসল ক্ষতিকর তামাক চাষেই ঝুঁকছে বেশি। কৃষকদের দাবি ঝুঁকিমুক্ত তামাক চাষে লাভ বেশি।

জামাল হোসেন নামে বড়গাংদিয়া এলাকার এক কৃষক অভিযোগ করেন, ধান চাষ করে লাভের পরিবর্তে অনেক সময় লোকসান গুনতে হয়। কিন্তু তামাক চাষে কখনো লোকসান হয় না। নগদ টাকা বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়।

তবে তামাক চাষের কারণে বেরো ধান চাষে কোন প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভুষন সরকার।

সরকারি প্রণোদনা বেশি দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পেলে এ অঞ্চলের কৃষকরা বোরো ধান চাষে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

সেক্ষেত্রে তামাক চাষ অধ্যুষিত কুষ্টিয়ায় তামাক চাষ হ্রাস পাবে। এ অঞ্চলের সচেতন মহলও এমনটাই মনে করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত