ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ১৭:০০

প্রিন্ট

অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে সুখবর পাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা

অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে সুখবর পাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষকরা
অনলাইন ডেস্ক

বাজেটে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্তির প্রক্রিয়া। তবে আগামী (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটে এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি থাকছে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা। চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এমপিওভুক্তিকরণে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে। ওই কর্মকর্তা জানান, বিগত আটটি বাজেটেই এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এ বাবদ অর্থ ছাড় না করায় ৯ বছর ধরে এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে। নতুন সরকার আসার আগে-পরে এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী নতুন বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিগত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালেও এমপিওভুক্তিতে বরাদ্দ রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এবার তিনি অর্থমন্ত্রী হওয়ার পরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব জানান, গত ৯ বছরে চাপ বেড়েছে। এমপিওভুক্তির জন্য সাড়ে ৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। সেগুলোকে এমপিও দিলে বছরে অন্তত তিন হাজার কোটি টাকা লাগবে। তাই সরকার তিন অর্থবছরে এমপিওভুক্তির চাপ সামাল দেওয়ার চিন্তা করছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে তিন অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এমপিওভুক্ত নয় এমন সাধারণ স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ৭ হাজার ১৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে বছরে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা প্রয়োজন।

মাউশির তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০১০ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর ৯ বছর দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়নি। বাজেটে অপ্রতুল বরাদ্দের কারণেই দীর্ঘদিন এ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে এমপিওভুক্তির জন্য প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২ হাজার ৭৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে স্কুল ও কলেজ ১ হাজার ৬২৯টি, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অধীনে মাদ্রাসা ৫৫১টি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৫৮২টি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৩২টি স্কুল এবং ২৯৯টি কলেজকে এমপিওভুক্তকরণের একটি তালিকা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে হিসাবে স্কুলের জন্য আগামী বাজেটে ২৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। আর কলেজের জন্য রাখা হতে পারে ৬২৭ কোটি টাকা। মাদ্রাসার জন্য বাকি অর্থ বরাদ্দ হতে পারে।

সারা দেশে বর্তমানে ২৬ হাজার ১৮০টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে স্কুল ১৬ হাজার ১৯৭, কলেজ ২ হাজার ৩৬৫ ও মাদ্রাসা ৭ হাজার ৬১৮টি। এ খাতে সরকারের ব্যয় বরাদ্দ আছে বছরে ১৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত