ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫২

প্রিন্ট

যাচ্ছে ইলিশ, বন্ধ পেঁয়াজ!

যাচ্ছে ইলিশ, বন্ধ পেঁয়াজ!
দেওয়ান পারভেজ

উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রায় সাত বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা স্বরূপ প্রথম চালান যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রোববার থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। যার ফলে বাংলাদেশের বাজারে দেখা দিয়েছে সংকট, দাম শ’ টাকা ছুঁইছুঁই।

একদিকে সাত বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ কর্তৃক পুনরায় ইলিশ মাছ রপ্তানির সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে ভারত কর্তৃক পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে চলছে তুমুল সমালোচনা।

জানা যায়, বাংলাদেশের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছেও সমান প্রিয় ইলিশ মাছ। কিন্তু দেশের চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন সময় তা রপ্তানি বন্ধ রাখে বাংলাদেশ সরকার। ২০১২ সালের আগে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হতো। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০১২ সালের পর রপ্তানি বন্ধ রাখে সরকার।

তবে গত বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব চালান সেখানে রপ্তানিরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মূলত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতের কলকাতায় ইলিশ নিয়ে যাবেন। পরে সেখানকার বাজারে তা বিক্রি করবেন। মূলত কলকাতার বাজারেই এ ইলিশ বিক্রি হবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস জানায়, প্রথম দফায় ২৪ মেট্রিক টন ইলিশের চালান রোববার দুপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রপ্তানিকারকের কাগজপত্রের জটিলাতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। যাবে আগামীকাল সোমবার।

এবার প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ৬ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজির দাম পড়বে ৫০০ টাকা। ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের কাস্টমস থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলিশের এ চালান ছাড় করা হবে।

গত কয়েক বছরে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে দেশে ইলিশ মাছের উৎপাদন আশাব্যঞ্জক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইলিশ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, শুধু দুর্গাপূজা নয়, পুরো মৌসুমই রপ্তানির অনুমোদন দিক সরকার।

এদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা রোববার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

চলতি বছর বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে পেঁয়াজের উৎপাদন বড় ধাক্কা খেয়েছে। ফলে পেঁয়াজের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে গত কিছুদিন ধরে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লির খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ রুপিতে, যা এক মাস আগেও ২০ থেকে ৩০ রুপি ছিল। ভারতের কোনো কোনো এলাকায় পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকাতেও উঠেছে।

আর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাজারে রোববার প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ভারত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে, যার একটি বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশে।

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন হয় ১৭ থেকে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের মত। তাতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় আমদানি করতে হয় ৭ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন। স্বল্প দূরত্ব আর সহজলভ্যতার কারণে আমদানির বেশিরভাগটা ভারত থেকেই হয়।

ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ৮৫০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়।

আর ওই খবরে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে যায় ২০ থেকে ২৫ টাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক কর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। টিসিবি খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে।

দেশের চাহিদা পূরণে ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন এক সপ্তাহ আগেও বলেছিলেন, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, দাম দ্রুত কমে আসবে। কিন্তু তার মধ্যেই রোববার ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা এল।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত