ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ২১:০৫

প্রিন্ট

মুড়ি আখের চাষ পদ্ধতি

মুড়ি আখের চাষ পদ্ধতি
ফাইল ফটো

কৃষি ডেস্ক

মূল আখ কাটার পর ভূগর্ভস্থ মূল আখের গোড়া (Stubble) থেকে যে আখের সৃষ্টি হয় তাকে মুড়ি আখ বলে। আখ ফসল উৎপাদনের একটি পুরাতন কৌশল এটি।

এই পদ্ধতিতে বীজ আখ ব্যবহার করতে হয় না, তাই লাভজনক। জমি চাষ ও পরিচর্যাও তেমন একটি করতে হয় না।

বাংলাদেশের ৩৫-৪০ ভাগ জমিতে মুড়ি আখ চাষ হয়, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। আমাদের দেশে মুড়ি আখ চাষ সাধারণত ১-২ বার করা হয়। কিন্তু ভারত, মরিশাস, কিউবা প্রভৃতি দেশে ৪-৬টি মুড়ি সহজে চাষ করে।

মুড়ি আখ চাষের জমি ৫০ ভাগে উন্নতি করা হলে অনেক পরিমাণ বীজ সাশ্রয় হবে। যা চিনিকলে সরবরাহ করে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।

চাষ পদ্ধতি-

মূল আখ কাটার দেড় থেকে দুই মাস পর কুশি (Sprouting) গজায়। উক্ত কুশিকে গোড়া থেকে সমান্তরালভাবে কাটা (Shaving) হয়। কাটার পর যে কুশি হয়, তা ভালোভাবে পরিচর্যা করতে হয় এবং সঠিকভাবে সার ও সেচ প্রয়োগ করতে হয়।

৩৩ শতাংশে (বিঘা) নিম্নরূপভাবে সার প্রয়োগ করতে হয়-

৩৩ শতাংশে সার প্রয়োগ পদ্ধতি

ইউরিয়া ৫৮ কেজি, টিএসপি ৩৭ কেজি, এমওপি ৩২ কেজি, জিপসাম ২২ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ২৮ কেজি, জিংক সালফেট ১ কেজি, গোবর/প্রেসমাড ২ টন, কুরাটার ৫ কেজি, রিজেন্ট২ কেজি।

২য় দফায় কুশি হওয়ার পর কুশি আখ একটু বড় হলে ১/৩ ভাগ ইউরিয়া, ১/৩ ভাগ এমওপি সার এবং সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, জিংক সালফেট, কুরাটার, রিজেন্ট একসাথে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের সাথে সাথে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।

কুশি আখ যখন একটু বড় হবে, সেচ প্রয়োগের পর প্রতিটি কুশি আখের ছোবায় গোবর অথবা প্রেসমাড প্রয়োগ করতে হবে।

মুড়ি আখের বয়স যখন ৩/৪ মাস হবে, তখন ১/৩ ভাগ ইউরিয়া, ১/৩ ভাগ এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। শেষ ধাপে আখের বয়স যখন ৫/৬ মাস হবে তখন অবশিষ্ট ১/৩ ভাগ ইউরিয়া, ১/৩ ভাগ এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে এবং সাথে সাথে আগাছা পরিষ্কার করে আখের সারিতে মাটি উঠিয়ে দিতে হবে।

সাধারণত ১০-১১ মাস বয়স হলে মুড়ি আখ পরিপক্ক হয়। তখন মুড়ি আখ কেটে চিনিকলে সরবরাহ করা হয় অথবা গুড় তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।

লেখক: কৃষিবিদ ড. মো. আবুল কালাম আল আজাদ

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত