ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:১২

প্রিন্ট

মুজিববর্ষে প্রাথমিকের জন্য সুখবর

মুজিববর্ষে প্রাথমিকের জন্য সুখবর
জার্নাল ডেস্ক

সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়েছে। এছাড়াও মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা উপজেলা এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও চলছে ক্ষণগণনা।

আর এই মুজিববর্ষে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবরও দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সূত্র বলছে, দেশের ১৬টি উপজেলার ২ হাজার ১৬৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৮ শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করবে সরকার। যদিও এমন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন মুজিববর্ষ শুরুর আগেই শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন জানান, বর্তমানে দেশের ১৬টি উপজেলার ৪০০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল কার্যক্রম চলমান আছে। মুজিববর্ষে এই ১৬টি উপজেলার মোট ২ হাজার ১৬৬টি বিদ্যালয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৮ শিক্ষার্থীকে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

আর এরই অংশ হিসেবে গত ৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া উপজেলায় ৩৩টি বিদ্যালয়ে রান্না করা খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো বলেও জানান গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সচিব।

তিনি আরও বলেন, আজ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুরে মিড-ডে মিল কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া রোধ, ক্লাসে ছাত্রছাত্রী ধরে রাখা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে সব শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের মধ্যে সারাদেশের স্কুলগুলোকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ‘জাতীয় স্কুল মিল নীতিমালা-২০১৯’ -এর খসড়ার অনুমোদনও দেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুধু গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলায় শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে ১০৪টি উপজেলায় ২৮ লাখ ৭৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতি স্কুল দিবসে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দৈনিক ৭৫ গ্রাম ফর্টিফাইড বিস্কুট সরবরাহ কার্যক্রম চলমান আছে। পরবর্তীতে শুধু বিস্কুট নয়, একদিন অন্তর অন্তর রান্না করা খাবার ও উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ বিস্কুট দেশের ১৬টি উপজেলার ৪০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এরপর মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হয়। আর সেই মিড-ডে মিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ১১৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে অবশিষ্ট ৪টি বিদ্যালয়ে এবং রাজীবপুর উপজেলার ৫৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে অবশিষ্ট ২৫টি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হবে। এই কার্যক্রমও উদ্বোধন করবেন প্রতিমন্ত্রী।

কার্যক্রম উদ্বোধনের পর এই দুটি উপজেলার ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অবশিষ্ট প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী মিড-ডে মিলের আওতায় আসবে। আর এ মাসেই আরও কয়েকটি জেলায় মিড-ডে মিল কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে বলেও জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থীকে মিড-ডে মিল কার্যক্রমের আওতায় আনতে স্কুল ফিডিং প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। ইতোমধ্যে খসড়া ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রণয়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত