ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৫৪

প্রিন্ট

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ হয়ে যায়নি!

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ হয়ে যায়নি!
জার্নাল ডেস্ক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে নারী কোটা সঠিকভাবে মানা হয়নি অভিযোগে হাইকোর্টে রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৩৮ জেলায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এর আগে গত মাসেও একই কারণে অন্তত ২০টি জেলায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এতে পুরো নিয়োগ কার্যক্রমই অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) খান মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৮ জেলায় নিয়োগ স্থগিতের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮-এর ফলাফলে ৬০ শতাংশ নারী কোটা সংরক্ষণ হয়নি উল্লেখ করে হাইকোর্টে ৩৮ জেলার প্রার্থীরা রিট আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ৬ মাসের জন্য নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করেছে। মামলাজনিত কারণে এসব জেলায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদান, কর্মশালা ও পদায়ন নির্দেশনা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হলো।

আদালতে বিষয়টি সুরাহা হলে পরবর্তীতে তাদের যোগদান-পদায়নের সময় জানিয়ে দেওয়া হবে। এ নির্দেশনা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তবায়ন করতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হওয়া নুতন জেলাগুলো হল- বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, নড়াইল, খুলনা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ঢাকা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, কক্সবাজার বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, সুনামগঞ্জ, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক নেতা বলেন, নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে ৬ মাসের জন্য। আজীবনের জন্যে তো আর স্থগিত করে নাই। এটা নিয়ে কাজ চলছে আইনীভাবে লড়েই চূড়ান্ত নির্বাচিতরা যোগ দিবেন।

অন্যদিকে সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকের (৬১ জেলার) ১৮ হাজার ১৪৭টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ১৮ হাজার ১৪৭ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নির্বাচিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের নামে নিয়োগপত্র জারি করা হয়েছে। শিগগিরই নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদান করবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩, অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৩ ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা, ২০১১ নীতিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। তবে আদালতে মামলা থাকায় কিছু জেলায় প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম আপাতত বন্ধ। তবে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) গত বছরের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর সারা দেশ থেকে ২৪ লাখ ৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। চারটি ধাপে পরীক্ষা হওয়ার পর ৫৫ হাজার ২৯৫ জন প্রার্থী পাস করেন। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত