ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৬

প্রিন্ট

শিক্ষকদের দাবি

প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে ১০ ধরনের বৈষম্য!

প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে ১০ ধরনের বৈষম্য!

জার্নাল ডেস্ক

বেতন বৈষম্য কমাতে চলতি মাসের ৯ তারিখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বাড়িয়ে আদেশ জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন বাড়ানোর ফলে এই শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে (১১ হাজার টাকার) বেতন পাবেন। এতে বৈষম্য আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষকরা।

এতদিন তাদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ১৪তম গ্রেডে (১০২০০ টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ১৫তম গ্রেডে (৯৭০০ টাকা) পেতেন। যদিও সহকারী শিক্ষকরা চেয়েছিলেন তাদের বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে (১২৫০০ টাকা) উন্নীত করা হোক। অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি।

১৩তম গ্রেডে বেতন পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে নূন্যতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক। অথচ নিয়োগকালে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল উচ্চ মাধ্যমিক।

শিক্ষকরা বলছে, সারাদেশের ৩ লাখ ৭৫ হাজার সহকারী শিক্ষকের অন্তত সোয়া লাখই ১৩ তম গ্রেডে সুবিধা পাবেন না। প্রাথমিক স্তরে মোট শিক্ষকের ৬০ শতাংশই নারী। সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবেন তারা। এ ছাড়া এতদিন ১৪তম গ্রেডে চাকরি করলেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের বেতন ১৩তম পার হয়ে ১২তম গ্রেডে চলে গেছে। এখন ১৩তম গ্রেডে নতুন করে বেতন নির্ধারণ করতে গেলে এই শিক্ষকদের বেতন উল্টো কমে যাবে। এসব নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট।

একাধিক শিক্ষক বলছেন, নতুন বেতন স্কেল নির্ধারণ করায় ১০ ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগবিধির ২(গ) ধারার শর্ত অনুসারে, নুন্যতম স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি ছাড়া এই গ্রেডে কেউ বেতন পাবেন না। যারা স্নাতক তৃতীয় শ্রেণি, কিন্তু স্নাতকোত্তরে দ্বিতীয় শ্রেণি- তারাও ১৩তম গ্রেড পাবেন না। মূলত এই বিধির কারণে অনেক শিক্ষক ১৩তম গ্রেড থেকে বঞ্চিত হবেন।

এই বিধিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হইতে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।’ অথচ কর্মরত শিক্ষকদের বড় অংশই আগের নিয়োগবিধি অনুসারে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আগের নিয়োগবিধিতে এইচএসসি পাস করে যারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, তারা বর্তমান নিয়োগবিধির আলোকে বেতন নির্ধারণ করলে ১৩তম গ্রেড থেকে বঞ্চিত হবেন। এ ছাড়া পুরুষ শিক্ষকদের মধ্যেও অনেক সিনিয়র শিক্ষক এই স্কেল থেকে বঞ্চিত হবেন। এমনকি চলতি দায়িত্বে থাকা ও পদোন্নতি পাওয়া প্রধান শিক্ষকরাও স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণি পাস করা না হলে ১৩তম গ্রেড পাবেন না।

শিক্ষকরা জানান, স্নাতক পর্যায়ে লেখাপড়া করার সময় চাকরি পাওয়া এবং পরে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও ১৩তম গ্রেড কেউ পাবেন না। একই সময়ে যোগ দেওয়া প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে চরম বেতন বৈষম্য বিরাজ করবে। কারণ ১১তম গ্রেডে যোগ দিয়ে চাকরির ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল হবে ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার টাকা। আর সহকারী শিক্ষক ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল হবে ১১তম গ্রেডে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকা।

এছাড়া ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ (ফিক্সেশন) উচ্চধাপে না নিম্নধাপে হবে তার কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে উন্নীত স্কেলের (বিএসআর-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী) নিম্ন ধাপে ফিক্সেশন করলে গ্রেড বাড়লেও বাস্তবে সব শিক্ষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী বেতন বৈষম্য নিরসন না হওয়ায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও জানান তারা।

একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান, নতুন এ বেতন স্কেল নিয়ে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হবে। ১৩তম গ্রেড চালুর ফলে পাশাপাশি অবস্থিত ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ জন প্রধান শিক্ষকের মধ্যে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ও জাতীয়কৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচএসসি পাস যোগ্যতা নিয়েও পাবেন ১১তম গ্রেডে বেতন। অথচ একই যোগ্যতা নিয়ে চলতি দায়িত্ব বা পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ১৩তম গ্রেডও পাবেন না।

শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, শিগগির তারা নিজ নিজ সংগঠনের সভা করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলছেন, সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড নির্ধারণে কারণ সরকার সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি করতে চায়। সেটা হলে তাদের ১২তম গ্রেড দেওয়া হবে। আর প্রধান শিক্ষকরা পাবেন ১১তম গ্রেড। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতির পদসোপান তৈরি হচ্ছে। তারা ধাপে ধাপে ওপরের পদে যাবেন। প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে নিতে হবে ভবিষ্যতে। সরকারের অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতনের সামঞ্জস্য যেন থাকে, তা খেয়াল রাখা হবে।’

আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত