ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ২৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২০, ১৭:৪২

প্রিন্ট

শিক্ষা নীতিমালা উপেক্ষা করে অনার্স শিক্ষকের এমপিও ছাড়

শিক্ষা নীতিমালা উপেক্ষা করে অনার্স শিক্ষকের এমপিও ছাড়
রাজশাহী প্রতিনিধি

শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগ দেয়া শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমানের এমপিও বন্ধ রেখে অনার্স শাখায় সৃষ্ট পদে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক আব্দুল হালিমের এমপিও ছাড় দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।এতে করে বেসরকারি শিক্ষানীতিমালা উপেক্ষিত হল।

২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর নওগাঁর সাপাহার চৌধুরী চাঁন মোহাম্মদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এনটিআরসিএ মো. জিয়াউর রহমানকে শূন্যপদে এইচএসসি পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর কলেজে যোগদান করেন তিনি। এরপর প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. জিয়াউর রহমান তিন বছর পার হওয়ার পরও কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না।

মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আপনারা জানেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা প্রাইভেটও পড়ে না যে এখান থেকে কিছু আয় করব; সেটারও সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ ও এনটিআরসিএ আমাকে নিয়োগ দেয়ার পরও বেতন ভাতাদি পাচ্ছি না। এতে করে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে দিনপার করছি। আমাকে এমপিওভুক্তিকরণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর জাতীয় কয়েকটি পত্রিকায় ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবার, ২০১৫ সালের ১৭ অক্টোবর দ্বিতীয়বার এবং ২০১৫ সালের ৭ নভেম্বর তৃতীয়বার অধ্যক্ষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পরে তিনি ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর এনটিআরসি-এর কাছে শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা দেন। এর প্রেক্ষিতে সরকারি বিধিমেনে তার নিয়োগ দেয়া হয়।

অধ্যক্ষ আবু এরফান আলীর দেয়া প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান এইচএসসি পর্যায়ে কলেজ শাখায় পাঠদান করছেন। এর আগে ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষের ২১৯/২০১২ নম্বর অধিবেশন অনুযায়ী অনার্স শাখায় সৃষ্ট পদে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক নিয়োগ দেয়া হয় আব্দুল হালিমকে। অনার্স শাখার এই শিক্ষক এইচএসসি পর্যায়ে কলেজ শাখায় সমন্বয় চেয়ে এমপিওভুক্তির জন্য হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর জন্য মো. জিয়াউর রহমানের এমপিওভুক্তি করার আবেদনটি সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী শাখার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী প্রত্যাখান করেন।

কলেজ অধ্যক্ষের দেয়া আরেকটি প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, আব্দুল হালিম এই কলেজে সৃষ্ট পদে অনার্স শাখায় পাঠদান করছেন। একইসঙ্গে সৃষ্ট পদে অনার্স শাখায় পাঠদানের জন্য প্রায় তিন বছর বেতন-ভাতাদি ভোগ করেন।

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, আইন অনুযায়ী মো. আব্দুল হালিমের এমপিওভুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন। এছাড়া আপিল বিভাগও আগের আদেশ বহাল রাখেন।

২০১৯ সালের ১১ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখা-৩ এর সহকারি পরিচালক ফারহানা আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে জনবল কাঠামো অনুযায়ী এমপিওভুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করা জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী শাখার উপ-পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আদেশ দেন।

এছাড়া ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ শাখা-৩ এর সহকারি পরিচালক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মো. আব্দুল হালিমের নিয়োগের বিষয়টি সরজমিনে তদন্তে করে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে রাজশাহী শাখার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরীর কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। কিন্তু আব্দুল হালিমের নিয়োগের বিষয়টি এখনও সরজমিনে তদন্ত করা হয়নি।

এরপর ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কলেজ শাখা-৩ এর সহকারি পরিচালক আবদুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জনবল কাঠামো মোতাবেক আব্দুল হালিমের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ হলে বিধি অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য আদেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

জনবল কাঠামো অনুযায়ী অনার্স স্তরের সৃষ্ট পদে নিয়োগ পাওয়া কোন শিক্ষক এইচএসসি/ডিগ্রি স্তরের এমপিভুক্ত কোন পদে পদ সমন্বয় প্রাপ্তির আইনগত সুযোগ নেই। একইসাথে বেসরকারি শিক্ষানীতিমালার ১৮-এর (গ, ঘ ও ঙ) অনুযায়ী ভুলতথ্য দিয়ে কোনো শিক্ষকের এমপিও ছাড়ের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের সুপারিশে এমপিভুক্ত বন্ধ বা চালু হলে নিয়োগ পাওয়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বেতন বন্ধ ও কমিটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে মাউশি ও মন্ত্রণালয় বলে উল্লেখ রয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best