ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:২৭

প্রিন্ট

সরকারি শিক্ষকের বোবাকান্না

সরকারি শিক্ষকের বোবাকান্না
প্রতীকী ছবি
জার্নাল ডেস্ক

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কতিপয় কর্মকর্তার প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সরকারি চাকরি করেও বেসরকারিভাবে অবসরে যেতে হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে। ভুক্তভোগীরা সবাই সরকারিকৃত ৩০২ কলেজের। উচ্চ পর্যায়ে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়না। মিলেছে শুধু আশ্বাস।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি অবসরে গেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অনু রঞ্জন দাস। জাতীয়করণের সম্মতির পর প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে তাঁকে অবসরে যেতে হয়েছে বেসরকারি শিক্ষক হিসেবেই। একইভাবে আরো দুজন শিক্ষক এই কলেজ থেকে অবসরে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে অনু রঞ্জন দাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ চার বছরেও আমাদের আত্তীকরণ না হওয়াটা হতাশার। কলেজটি জাতীয়করণের জন্য কত চেষ্টা করেছি। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে কত দৌড়ঝাঁপ করেছি। অথচ আমি নিজেই সরকারীকরণের সুবিধা পেলাম না। এখন আমি পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’

জানা যায়, জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত ৩০২ কলেজের বেশির ভাগই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পায় ২০১৬ সালে। জাতীয়করণের এই সিদ্ধান্ত অনেকটা চ্যালেঞ্জ করে ‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’ আন্দোলনে নামেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরীর অনুসারীরা। তাঁরা এ নিয়ে রিট পিটিশনও দায়ের করেন। ফলে মামলার ধকল পেরিয়ে কলেজ সরকারীকরণের গেজেট হয় ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট। শাহেদুল খবির চৌধুরী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) হওয়ায় এত দিন তাঁর এখতিয়ারেই ছিল জাতীয়করণের সব কাজ। তবে প্রায় চার বছর ধরে মাউশি তাদের কাজ শেষ করেছে। এখন তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যাচাই শেষে এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক কলেজের ফাইল পদ সৃজনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখানে একজন উপসচিব এ সংক্রান্ত সব ফাইল দেখছেন। ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পুনরায় জট সৃষ্টি হচ্ছে। এরপর ফাইল যাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তাদের সম্মতি পেলে ফাইল যাবে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে। এরপর সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর শিক্ষকদের চাকরি সরকারীকরণের চূড়ান্ত গেজেট জারি হবে।

শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো পরবর্তী ধাপগুলোতেও নতুন করে যাচাই-বাছাই শুরু হলে আগামী চার-পাঁচ বছরেও এই আত্তীকরণের কাজ শেষ হবে না। আর এই সময়ের মধ্যে দায়িত্বরত অর্ধেক শিক্ষক-কর্মচারীকেই বেসরকারি হিসেবে অবসরে চলে যেতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমি সচিব হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আত্তীকরণের কাজ দ্রুত শেষ করতে পাঁচটি কমিটি করে দিয়েছি। করোনার কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও এখন দ্রুত কাজ চলছে। আশা করছি, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে আর কোনো যাচাই-বাছাই হবে না। সেসব মন্ত্রণালয়েও যাতে একাধিক ডেস্কে কাজ শেষ করা হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে কথা বলব। যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজটা শেষ করতে চাই।’

জাতীয় করা কলেজ শিক্ষকদের সংগঠন সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির (সকশিস) সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি আত্তীকরণে এক কাগজ কেন বারবার যাচাই হচ্ছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। চার বছর পার হয়েছে, আর কত অপেক্ষা করতে হবে? সরকারি কলেজে চাকরি করে বেসরকারি হিসেবে অবসরে যাওয়ার যে দীর্ঘশ্বাস, তা আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চার বছরেও আত্তীকরণের কাজ শেষ না হওয়ায় ১২ হাজার শিক্ষক আর চার হাজার কর্মচারীর মধ্যে প্রায় তিন হাজারই এরই মধ্যে অবসরে চলে গেছেন। সরকারি কলেজে চাকরি করেও তাঁদের বেসরকারি হিসেবেই অবসরে যেতে হয়েছে। শিক্ষকরা অবসরে চলে যাওয়ায় এবং নতুন নিয়োগ বা পদায়ন না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি একাধিক কলেজে এমন বিভাগও রয়েছে যেখানে একজন শিক্ষকও নেই।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত