ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ২৬ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২০, ২০:০২

প্রিন্ট

অনলাইন ক্লাসের বাইরে ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী

অনলাইন ক্লাসের বাইরে ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী

শিক্ষা ডেস্ক

করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পরই অনলাইনে ক্লাসের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সরকারি টেলিভিশন, রেডিওতে নিয়মিত নেয়া হচ্ছে প্রাথমিক, মাধ্যমিকের বিষয়ভিত্তিক ক্লাস। তবে এই অনলাইন শিক্ষায় কতটুকু উপকৃত হয়েছে, কত শতাংশ শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছে এবং এসব ক্লাসে অংশ নেয়ার ফলে কতটা বেড়েছে ইন্টারনেট খরচ— সেটারই জরিপ চালিয়েছে বাংলাদেশ এডুকেশন রিপোর্টার্স ফোরাম (বিইআরএফ)। জরিপে দেখা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অনলাইন ক্লাসে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে মোট ৬৩ শতাংশ। আর অংশ নিতে পারেনি ৩৭ শতাংশ।

বুধবার সংস্থাটির ‘শিক্ষা জরিপ-২০২০’- এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নগর ভিত্তিক এই জরিপ কাজে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মেগা সিটি ঢাকা ও চট্টগ্রামকে। শিক্ষার্থীদের কাছে নির্ধারিত প্রশ্নের ফরম দেয়া হয়, শিক্ষার্থীরা সেটি পূরণ করেছে। শিক্ষার্থীদের ফরমে পূরণের তথ্য সমন্বয় করে উপস্থাপনের জন্য প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ৪৯৬, ঢাকা ৩৯৫ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত প্রশ্ন করে উত্তর সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য বিভাগের ২৩৫ জন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে। অন বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরিশাল ২০, খুলনা ২৬, ময়মনসিংহ ২৯, রাজশাহী ৮৫, রংপুর ৬৭ এবং সিলেট বিভাগের ৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, মাধ্যমিকে ৪২ শতাংশ, উচ্চ মাধ্যমিকে ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে মোট ৬৩ শতাংশ। আর অংশ নিতে পারেনি ৩৭ শতাংশ। ভিডিও মাধ্যমে শিক্ষা নিয়েছে ৬১ শতাংশ, অংশ নেয়নি ৩৯ শতাংশ। ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে শিক্ষা নিচ্ছে ৩৫ শতাংশ, নেয়নি ৬৫ শতাংশ। অন্য মাধ্যমে (ইমেইল, হোয়াটসআ্যাপ, ভাইবার ইত্যাদি) শিক্ষা নিচ্ছে ২১ শতাংশ আর নেয়নি ৭৯ শতাংশ।

ইন্টারনেট ব্যয় ৫০১ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর। ইন্টারনেট ব্যয় ৭০ টাকা থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করেনি ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সহযোগিতা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

স্মার্ট ফোন আছে ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর। স্মার্ট ফোন নেই ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষকগণ যোগাযোগ করেছেন ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে। আর যোগাযোগ করেনি ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে।

টেলিভিশন আছে ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে, নেই ২ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাড়িতে। শহরে টেলিভিশনের চিত্র এমন হলেও গ্রাম পর্যায়ে অসমাপ্ত জরিপ অনুযায়ী গ্রামে টেলিভিশনের সংখ্যা কম হবে বলে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।

সংসদ চ্যানেলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়, এটি জানে ৯৪ শতাংশ, আর জানে না ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। সংসদ চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখে ১১ শতাংশ, দেখে না ৮৯ শতাংশ। যারা দেখে তাদের মধ্যে উপকৃত হচ্ছে ৬৭ শতাংশ, উপকৃত হচ্ছে না ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহায়ক, অনুশীলন বই বা সহায়ক পড়ে ৯৯ শতাংশ, পড়ে না ১ শতাংশ। করোনার সময়ে সহায়ক, অনুশীলন বই নিয়ে শিক্ষায় সহায়তা নিয়েছে ৯৮ শতাংশ, নেয়নি ২ শিক্ষার্থী। করোনার কারণে পরিবারের ব্যয় কমেছে ৯৭ শতাংশ, কমেনি ৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের। শ্রেণি কার্যক্রম হয়নি তারপরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ ফি নিয়েছে ৯৩ শতাংশ, কিছুটা কম নিয়েছে ৭ শতাংশ। ৫০ শতাংশ টিউশন ফি নিয়েছে ২ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনার সময় ৯৯ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোচিং করাইনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনাভাইসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। কওমি মাদ্রাসা বাদে অন্যসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা ছিল। মহামারীর মধ্যে এবার পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা এবং মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা নেবে না সরকার। আর অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত