ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৩১

প্রিন্ট

করোনায় বন্ধ ১৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন

করোনায় বন্ধ ১৫ হাজার কিন্ডারগার্টেন
রাজধানীর বাসাবো এলাকার কুসুমবাগে অবস্থিত কবি নজরুল কে জি স্কুল

আসিফ কাজল

ছোট্ট বিদ্যালয়ের ছোট্ট আঙ্গিনা। সেখানে অনেকদিন ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাচ্চাদের খেলনা। টিনের চালেও জমেছে লতাপাতার আস্তরণ। সেই কবে শিশু শিক্ষার্থীদের কিচিরমিচির আর খুনসুঁটি এখানে শেষ হয়েছে তা হয়তো শিশুরাও ভুলে গেছে।

এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর বাসাবো এলাকার কুসুমবাগে অবস্থিত কবি নজরুল কে জি স্কুলের ভেতরে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা হয় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আল মামুনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আট মাস ধরে বন্ধ বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও নেই। টিউশন ফি না নেয়ার কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।’

বিদ্যালয়টির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পরিবার নিয়ে দুটি ঘরে বসবাস করছেন একজন শিক্ষক।

এমন চিত্র শুধু রাজধানীর এই কবি নজরুল কে জি স্কুলের নয়, মহামারি করোনার কারণে দেশের প্রায় সব কিন্ডারগার্টেনের একই অবস্থা।

বাংলাদেশের প্রায় সব কিন্ডারগার্টেন স্কুল-কলেজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হয়। দেশে এ রকম প্রতিষ্ঠান আছে ৬০ হাজারের মতো। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ১২ লাখ। এ প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত টিউশন ফি দ্বারা পরিচালিত হয়। করোনার কারণে মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এরপর থেকে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎসও বন্ধ। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক অভাবের কারণে আত্মহত্যা করেছেন একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। এছাড়াও পেশাবদল করেছেন হাজারো শিক্ষক। অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় প্রতিদিনই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিন্ডারগার্টেন স্কুল খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন।

কিন্ডারগার্টেনের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করছেন, ‘করোনার মধ্যে কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়া হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমসহ চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে। সবাই একসঙ্গে থাকছে, পড়ছে। সেখানে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে এমন নজির নেই। অথচ আন্দোলন-দাবির পরও কিন্ডারগার্টেনগুলো খোলা হচ্ছে না।’

‘উল্টো সর্বশেষ করোনা সংক্রমণের কারণ দেখিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলো’ যোগ করেন তারা।

কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. আহসান সিদ্দিকী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘প্রায় ৮ মাসের ভাড়া দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনও দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালারা প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে।’

‘এমন অবস্থা চলতে থাকলে ৮০ ভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। পরিচালকরা পথে বসবে। কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেকার হয়ে যাবে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলো।

এর জন্য তারা দায়ি করছেন, সরকারের সহযোগিতার অভাব, সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্যকে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে প্যারালালভাবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে তুলছি আমরা। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সহযোগিতা আমরা পাইনি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত বছরের ৬ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ থেকে ঘোষণা এলো- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তানরা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়তে পারবে না! এটাতো শিক্ষানীতির পরিপন্থী।’

ভাষা সৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের সন্তান, কিন্ডারগার্টেন ও সমমান স্কুল রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আবদুল অদুদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে নিরক্ষরমুক্ত দেশ ও সার্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। এ কারণে আমরা কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়গুলোর দৈন্যতা নিরসনে সরকারের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা চেয়েছি। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

‘কোনো সংস্থা কিন্তু দেখবে না দেশের কতগুলো সরকারি আর কতগুলো বেসরকারি বিদ্যালয় বন্ধ হলো। স্কুল বন্ধ হওয়া কিন্তু সরকারের জন্য সুখকর কিছু নয়। বরং রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার’ বলেন তিনি। আবদুল অদুদ আরো বলেন, ‘এ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে আমাদের প্রস্তাব তোলা হয়েছে ও বিশেষজ্ঞ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’

‘এরপরও এ সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ চেয়েছেন’ ভাষা সৈনিক আবদুর রাজ্জাক মাস্টারের এ সন্তান।

আরো পড়ুন

প্রাথমিকের যেসব শিক্ষকের জন্য কঠোর নির্দেশনা আসছে

করোনায় সংক্রমিত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী

যেসব প্রাথমিক শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে সরকার

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত