ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৮:২৫

প্রিন্ট

খুবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করবে শিক্ষক নেটওয়ার্ক

খুবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করবে শিক্ষক নেটওয়ার্ক
ছবি- প্রতিনিধি

ঢাবি প্রতিনিধি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) তিন শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে আগামী সাত ফেব্রুয়ারির পর উপাচার্যের কার্যালয়ে ঘেরাও করার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

খুবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে এ ঘোষণা দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।

প্রতিবাদ সমাবেশের সঞ্চালনা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামীনা লুৎফা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হুশিয়ারি দিয়ে অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ যদি প্রত্যাহার না হয়, তাহলে আমরা শিগগিরই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব। উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করবো এবং দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যাল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে এ মানববন্ধন-সমাবেশ করা হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করে আগামী সাত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেধে দেন ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান। তাদের দাবিগুলোর হলো:

১। শুধু আশ্বাস না, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার।

২। এই সিন্ডিকেটকে অবৈধ ঘোষণা করা এবং তাদের অবৈধ সিন্ডিকেট যত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা তদন্ত করা।

৩। উপাচার্য যে অপরাধ করেছেন, বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন, সেটা তদন্ত করা।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে এর জন্য ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে আমার বলতে ইচ্ছে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মমার্থ সেটি বুঝতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম সমাবর্তনে প্রফেসর অর্মত্য সেন বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কাজ হচ্ছে না বলতে শেখা, এটির কাজ হচ্ছে চ্যালেঞ্জ করা, যে কোন অন্যায় এবং অন্যায্যতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ।

রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, বলতেয়ারের একটি উক্তি আছে যে, ‘আমি তোমার সঙ্গে দ্বিমত দিতে পারি, কিন্তু তোমার কথা বলতে দেয়ার জন্য আমি আমার জীবনও দিতে পারি।’ এটিই হলো গণতন্ত্রেন সৌন্দর্য। এ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দিয়ে জ্ঞানচর্চা তৈরি হয় এবং এটি দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি রাজনীতি চলবে না। যেখানে রাষ্ট্র নিজেই হলো একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সে রাষ্ট্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি না চললে কী চলবে? আন্তোনিও গ্রামশি বলেছিলেন, ‘সারি সারি দালান কোঠা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে, সারি সারি দালান কোঠা জেলাখানারও থাকে, একটি মানুষকে বন্দি করে আরেকটি মানুষকে মুক্ত করে।’ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কী একটি কারাগার, আমার জানতে ইচ্ছে করে। এ বিশ্ববিদ্যালয় কী একটি ক্যান্টনমেন্ট? উপাচার্য সামরিক বাহিনীর জেনারেল নাকি, মানুষ কথা বলতে পারবে না, আন্দোলন করতে পারবে না?

অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান বলেন, সরকার হচ্ছে জনমানুষের প্রতিনিধি। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনমানুষকে সুচারুভাবে ব্যবস্থাপনা করে রাষ্ট্রের একটা অভীষ্ট লক্ষ্য নিশ্চিত করে সেটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সরকার প্রবৃদ্ধি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের কথা বলে, কিন্তু আমরা যদি দেখি প্রবৃত্তি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজের মধ্যদিয়ে যে সরকারি শাসন সেটা আসলে নিয়ন্ত্রণের শাসন। সেই সরকারি শাসন আমি বলি মকারি, এটা হচ্ছে ভন্ডামি। প্রবৃদ্ধির নামে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে নদী ভরাট করে। কোয়েলিয়া নদী ভরাট করে সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হচ্ছে। এখানে টিএসসির ঐতিহ্য জলাঞ্জলি দিয়ে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামত তোয়াক্কা না করে এটাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের যারা শাসক আছেন, তারা বক্তৃতায় বলেন আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঢুকে গেছি. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য তারা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করবেন। কিন্তু তারা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ তৈরি করবেন কিভাবে? একটা সমাজ জ্ঞানভিত্তিক হতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সৃজনশীলতা। আর সৃজনশীলতার প্রথম শর্ত হচ্ছে প্রশ্ন. আপনি প্রশ্ন করার কোন সুযোগ রাখছেন না, প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে সৃজনশীলতার চর্চা হয়, তা আপনারা রোধ করছেন।

অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিন খান আরও বলেন, আপনি ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করছেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শাসক আছেন তারা নিজেদেরকে আমলা মনে করছেন। যারা রাষ্ট্রের শাসক তারা আমলাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারি চাকরিবিধি দিয়ে। এরকম আমলাতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা যখন তৈরি হচ্ছে, তখন আসলে সৃজনশীলতা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ- এসব ভণ্ডামি, মকারি ছাড়া আসলে অন্য কোনো কিছুই না। সেই কমারির একটা রূপ আমরা দেখতে পেলাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আচরণের মধ্যদিয়ে।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনজন শিক্ষককে বহিষ্কার করার ক্ষেত্রে যে ভাষা ব্যবহার করেছে, এটি অত্যন্ত আপত্তিকর। শিক্ষকরা কোথায় আবেদন করতে পারবে, কোথায় কাজ করতে পারবে, এ ধরনের শাস্তি প্রদান করা কোনো কর্তৃপক্ষের আওতার মধ্যে পড়ে না। বহিষ্কারাদেশ পুর্নবিবেচনা করতে অনুরোধ করবো। এ ধরণের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।

এছাড়া অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রাহাদ, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক অমল ক্লান্তি, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি আরিফ মহিউদ্দিন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিপিল রায়, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সংগঠনিক সম্পাদক অমল ত্রিপুরা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত