ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৭:৪১

প্রিন্ট

সাত কলেজ চায় আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

সাত কলেজ চায় আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট কমাতে অধীনস্থ কলেজগুলোকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৭ সালে। ওই বছরই পরিকল্পনাহীনভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হয় রাজধানীর বড় সাতটি কলেজ। তিন বছর পর দেখা যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদবাকি কলেজগুলোর তুলনায়ও পিছিয়ে পড়েছে এই কলেজগুলো। এবার সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন, সাত কলেজের সাতটি পৃথক ক্যাম্পাস হবে এবং একটি প্রশাসনিক ভবন হবে।

সংকট সমাধানে শিক্ষার্থীরা নানা সময়ে রাস্তায় নেমেছে। সর্বশেষ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চলমান পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। দিনভর আন্দোলনে স্থবির হয়ে যায় পুরো রাজধানী। জরুরি বৈঠক ডাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই দিনের মধ্যে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নতুন রুটিনও প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রুটিন পেয়ে বাসায় ফিরে গেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে একের পর এক সংকট নিরসনে নতুন দাবি তুলছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

তারা বলছেন, সাত কলেজকে নিয়ে একটি পৃথক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান করা যেতে পারে। যেটার মাধ্যমে আর ঝামেলা থাকবে না। তবে কেউ বলছেন, অধিভুক্তি থেকে নতুন করে আবার স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গেলে ঝামেলা বাড়তে পারে। শিক্ষাবিদরাও তাদের মতের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

মো. অনিক হাসান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের সকল স্টুডেন্টদের একটাই স্বপ্ন, সাত কলেজ নিয়ে আলাদা একটা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় গঠন হবে। যার নাম হতে পারে ‘৭ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়’ বা অন্য কোন মহান মানুষের নামে অথবা কোন সৃজনশীল নাম। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি ক্যাম্পাস থাকবে এবং স্বতন্ত্র একটা জায়গায় যার প্রশাসনিক ভবন থাকবে। ৭টি ক্যাম্পাসের নামগুলো বর্তমান কলেজের নামেই হবে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ছোট্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও কিন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে। যেখানে আমারা ৭ কলেজ সংখ্যায় অনেক বড়। ঢাবির স্টুডেন্টরা সাত কলেজ’র সাথে প্রতিহিংসায় লিপ্ত। তাই যতদিন স্বায়ত্তশাসিত না হবে সেশনজট তো দূর; কোন কল্যাণই হবে না। আমাদের যা যাওয়ার গিয়েছে আগামীতে যেন এটা না হয়।

জানতে চাইলে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বকর বলেন, কাউকে না কাউকে ঝামেলা নিতে হবে। আমরা হয়তো সে ঝামেলাটা পোহাচ্ছি। তবে অধিভুক্ত হওয়ার পর যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি হয়েছে তারা ভালো আছে। তাই বলবো অধিভুক্ত থাকলে সমস্যা নেই। তবে যাতে সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সজাগ থাকে সে অনুরোধ রইলো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সময় সাত কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের বার বার অসন্তোষ ও রাস্তায় নেমে আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনোভাবেই যাতে বিশৃঙ্খল কিছু না হয়, জনগণের ক্ষতি না হয় সেটিকে মাথায় রেখে শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম করবে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও উচিত হবে তাদের পরীক্ষা যথাসময়ে নেয়া এবং ফল প্রকাশ করা। যাতে তাদের মনে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়।

শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র শাসন ব্যবস্থার দাবির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি শতবর্ষী বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ। আলাদা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা তাদের জন্য অনেক গৌরবের বলে আমি মনে করি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমত কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া তাদের হুট করে ঢাবির অধীন করার সিদ্ধান্ত ছিল মারাত্মক ভুল। একটা পরিস্থিতি দাড় করিয়ে তারপর তাদের একটি নির্দিষ্ট বর্ষ থেকে অধিভুক্ত করা যেতে পারতো। একই সঙ্গে এরজন্য যে পর্যাপ্ত জনবল দরকার সেটরও দরকার আছে।

তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাড় করানো যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের সার্টিফিকেট দেবে সেটা ঠিক আছে। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে এমন অনেক নজির রয়েছে। আমাদের দেশে অনেক গবেষক আছে। তাদের এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রী, সাংসদদের আত্মীয় স্বজনরা এসব প্রতিষ্ঠানে রয়ে গেছে। তাদের বদলি করে অন্যত্র দিয়ে বিভিন্ন গবেষকদের এখানে সংযুক্ত করা যেতে পারে।

‘পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ল্যাবেল থাকলে সেগুলো বাদ দিয়ে আপাদমস্তক উচ্চতর ডিগ্রির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে। তাহলে বিরাট পরিবর্তন আসবে। এছাড়া এত বিশাল অংশের ছাত্রদের ঢাবির নিজস্ব প্রশাসনের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাবির সিলেবাস ফলো করতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. একরামুল কবির বলেন, মূলত তৎকালীন সময়ে হুট করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢাবির অধীনে নিয়ে আসা ছিল চরম ভুল সিদ্ধান্ত। এটার ক্ষতির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এখন একটা সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে, সম্পূর্ণ আলাদাভাবে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ থাকবে। যেখানে তারা ঢাবির সিলেবাস, রুলস মানবে। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে সম্পূর্ণ আলাদা পরিচালিত হবে। তবে পৃথক পৃথক কলেজগুলোকে আলাদা আলাদা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান করার সুযোগ নেই। এটি প্রচুর ব্যয় সাপেক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি সাত কলেজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাস হয়েছে। সেখানে একজন প্রো-উপাচার্যকে প্রধান করে পৃথক পরিচালনা পরিষদের সুপারিশ করা হয়। তারই ভিত্তিতে ২০২১ সালে এসে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালকে সাত সরকারি কলেজের প্রদান সমন্বয়ক করা হয়েছে এবং সাত কলেজের জন্য একটি পৃথক ইউনিটও গঠন করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অনেক শিক্ষার্থী জানেও না।

‘তাদের স্বার্থে আমি বলতে চাই, সবকিছুই সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই আমরা কাজ করছি।’

একে/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত