ঢাকা, রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ২৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২১, ০৯:৫৯

প্রিন্ট

১০ শিক্ষককে শোকজের নেপথ্যে

১০ শিক্ষককে শোকজের নেপথ্যে

আসিফ কাজল

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করায় বৃহস্পতিবার ১০ শিক্ষককে শোকজ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। সশরীরে অধিদপ্তরে এসে তাদের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।

মাউশি সূত্র জানায়, ৪ মার্চ ও ৮ মার্চ এই ১০ জন শিক্ষক কারণ দর্শাতে শিক্ষা ভবনে এসে তাদের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।

এ বিষয়ে ১০ শিক্ষকের মধ্যে একজন মো. ওমর ফারুক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘আমি কর্তৃপক্ষকে লিখিত জবাব দিয়েছি। এ বিষয়ে তারা আমাকে কিছু প্রশ্ন করেছে তার উত্তরও দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমিও জানতে চেয়েছিলাম আমাকে কেন শোকজ করা হলো? এর উত্তরে কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি অনলাইন পত্রিকার দুটি খবর শেয়ার করেছেন। এটাই শোকজ করার কারণ।’

ওমর ফারুক বলেন, ‘যদিও পরিচালক কক্ষে আমাদেরকে ডাকা হয়েছিলো। কিন্তু পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন ব্যস্ত থাকায় আমাদেরকে সহকারী পরিচালক (২) দুর্গা রানী শিকদারের কক্ষে উপপরিচালক স্যারসহ আরো কিছু শিক্ষা কর্মকর্তা বসেছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে আমাদের কিছু প্রশ্ন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, এ বিষয়ে সরকারি কোন নীতিমালা বিধিমালা আছে কি না আমার জানা নেই। আমি তাদেরকে এটাও বলেছি যদি আমার কোন সিনিয়র সহকর্মীও যদি বলতেন, যে এটা করা যাবেনা তবে আমি ফেসবুকে লিংক শেয়ার করতাম না।’

শেয়ার করার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মন্তব্য ছিলো এ কারণে আমি এটি শেয়ার করেছি।’

জানা যায়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক পদে ৭ হাজার ২৭৮ জনের খসড়া তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

শিক্ষকদের অভিযোগ, এরমধ্যে নিয়োগ বিধিমালা ও আইন অনুযায়ী সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। আর প্রায় ১৫০০ শিক্ষক আছেন যাদের বিএড জটিলতা আছে। অথচ যাদের পদোন্নতির যোগ্যতা রয়েছে তাদের ১০ জনকেই শোকজ করা হয়েছে।

এই ১০ শিক্ষকের কোন শাস্তি হবে কি না জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. বেলাল হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘এই ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো কোন সিদ্ধান্ত আমরা নেয়নি। যদি কোন শাস্তি দেয়া হয়ে তবে তা জানিয়ে দেয়া হবে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের মাউশি ওয়েবসাইটে ১০ জন শিক্ষকের নোটিশের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। নোটিশে শিক্ষকদের স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর শেয়ার করা এবং ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্য করায় এ নোটিশ দেয়া হয় বলে জানানো হয়।

যে ১০ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে তারা হলেন- খুলনার কেডিএ খান জাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) ওমর ফারুক, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো. আকতারুজ্জামান, বরগুনা জেলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) হারুন অর রশিদ, সিরাজগঞ্জের বিএল গভ: হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সম্রাট সাইফুল, চাঁদপুর গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোহাম্মদ তৈয়ব আলী, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সরকারি কে জি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) আমিনুর রহমান, হবিগঞ্জের চুনারঘাট উপজেলার রাজার বাজার সরকারি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আবু ইসহাক চৌধুরী, ঢাকার শেখ জামাল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) ইলিয়াছ আহম্মেদ এবং নীলফামারী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেজওয়ানুল কবির।

এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের আইনজীবী মো. সিদ্দিক উল্লাহ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ উভয়কেই সহনশীল আচরণ দেখানো উচিত।’

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত