ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৪০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৫১

প্রিন্ট

প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ: ডিপিএড

প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ: ডিপিএড
প্রতীকী ছবি

আসিফ কাজল

ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন সংক্ষেপে যার নাম ডিপিইড। একজন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষককে দেড় বছরের এ কোর্সটি করা বাধ্যতামূলক। প্রতিমাসে সরকার থেকে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে তিন হাজার করে টাকা দেয় সরকার। তবে এখনো ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থী অনেক শিক্ষক ৬ মাসের ভাতার টাকা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি এ টাকা পাবেন কি না তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যে কারণে প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক কিট এলাউন্স বাবদ ১৮ হাজার টাকা ও প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা পেয়ে থাকে। ৬ মাস অন্তর এ টাকা তাদেরকে দেয়া হয়। কিন্তু অনলাইনে এবার কোর্স নেওয়ায় অনেক শিক্ষককে এ টাকা এখনো দেয়া হয়নি।

ফারজানা আক্তার নামে এক প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ডিসেম্বরে প্রশিক্ষণ ভাতার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এপ্রিলেও এখনো টাকা পাইনি। আমাদের কোর্স বাকি আর মাত্র দুমাস। এ বিষয়ে উপর মহল থেকেও কোনো নির্দেশনা আমাদেরকে দেয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতনদের উচিত আমাদেরকে ধোঁয়াশায় না রেখে প্রাপ্য অর্থ দেয়া।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড শুরু হয়ে প্রায় শেষের পথে। শিক্ষাবর্ষের সরাসরি কার্যক্রম চলেছে গত বছরের ১৬ মার্চ পর্যন্ত। কোভিড-১৯ এর কারণে ১৭ মার্চ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য কার্যক্রম বন্ধ হয় এবং ১ জুলাই থেকে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে ডিপিএড কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে উক্ত শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ টার্মের কার্যক্রম চলমান। চতুর্থ টার্মের কার্যক্রমের মধ্যে ৯০ মার্কের কাজ এখনও বাকি। এদিকে এই কোর্স সম্পন্ন করতে অনেক শিক্ষক ভাল ডিভাইস কিনেছেন। যার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। আবার অনলাইনে ক্লাস করতে প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ডাটা ক্রয় করতে হয়েছে। এছাড়াও ট্রেনিং এর জন্য অনেককেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হয়েছে। পিটিআইয়ের সংস্থাপন ব্যয়, হোস্টেলে থাকতে গিয়ে প্রয়োজনীয় খরচ (মেস খরচ, খাওয়া, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস) বেতন থেকে ব্যয় করতে হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষার জন্য আবার বাসাভাড়া নেওয়া, হোস্টেলে পুনরায় অবস্থান করা ইত্যাদিতেও অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে ভাতা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব প্রশিক্ষনার্থীরা।

অপর এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ মানেই প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা থাকে। যা থেকে তারা প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করতে পারে। ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপিএড প্রশিক্ষণার্থীদের প্রথম ছয় মাসের ভাতা দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের মাধ্যমে জানা যায় যে, কেউ কেউ তিন মাসের প্রশিক্ষণ ভাতা পেয়েছেন। অথচ ডিসেম্বর ২০২০ পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী ভাতার খোঁজ নেই। গত ২৯ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জারি করা ‘অনলাইন প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, ২০২১’ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ভাতার কথা বলা আছে। যা থেকে বুঝা যায় যে, আমরা ভাতা পাবো।’

এ বিষয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ) পরিচালক মো. ইউসুফ আলী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রশিক্ষণ সামনা সামনি হয় নাই। মন্ত্রলালয় থেকে এমন যুক্তি দেখানো হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ কিন্তু অনলাইনে চলেছে। সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতাটি প্রাপ্য। এখন বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে।’

এ বিষয়ে উপসচিব নাজমা শেখকে ফোন করা হলে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘এ বিষয়ে একদমই আমার কোনো ধারণা নেই। বিষয়টি উন্নয়ন শাখা দেখবে।’

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি একটি মিটিং এ আছি, এ বিষয়ে পরে আপনাকে জানাবো। কিন্তু এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ভাতা ঠিকঠাক পাননি। অথচ এটি শিক্ষকদের ন্যায্য টাকা। এ বিষয়ে আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদেরকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত