ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২১, ১৯:৪১

প্রিন্ট

পদ সৃজন না হওয়ায় আশাহত ১০ হাজার শিক্ষক

পদ সৃজন না হওয়ায় আশাহত ১০ হাজার শিক্ষক

আসিফ কাজল

সরকারি মাধ্যমিকে ২০১৫ সালে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পদ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও পদোন্নতির দেখা পাননি শিক্ষকরা। কতজন শিক্ষক জেষ্ঠ্যতা পাবেন তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এর উপর পদ সৃজনে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ অনেকদিনের। তবে সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) থেকে নবম গ্রেডের ১০০৯টি পদ রাজস্বখাতের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরফলে সরকারি মাধ্যমিকের ১০ হাজার শিক্ষকের মনে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষকরা মনে করছেন, প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা আসার কারণে শিক্ষকদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হলো। এরফলে শিক্ষকদের বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে থানা শিক্ষা কর্মকর্তা বা অন্যান্য যেসব পদ ছিলো তা আর শিক্ষকদের আওতায় থাকলো না।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র জানায়, সারাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ১০ হাজার ৯০৪টি। এরমধ্যে সিনিয়র শিক্ষক হওয়ার জন্য যোগ্য শিক্ষক আছেন ৭ হাজার ২৩৩ জন। ২০১৫ সালে যখন সিনিয়র শিক্ষক পদ সৃষ্টি হয় তখন ৭,৭৬৪ টি সহকারী শিক্ষকের পদের বিপরীতে ৩,৮৮২ টি সিনিয়র শিক্ষক পদ অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে।

এমন ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকেই দুষছেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, দীর্ঘ ৬ বছরেও এই ১৫৭০ টি অতিরিক্ত পদ সৃজন করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ প্রকল্প থেকে এখন হাজারো পদ সৃজনের পায়তারা চলছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি মাধ্যমিকের এক শিক্ষক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সেসিপ প্রকল্পের ১ হাজার ৯টি ৯ম গ্রেডের পদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে এসে ১০তম গ্রেডে চাকরি শুরু করেন। চাকরিতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় শিক্ষকরা পেশা বদল করছেন। পদোন্নতি না থাকায় অনেকের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

অপর এক শিক্ষক বলেন, প্রকল্প হতে আগত নবম গ্রেডে প্রতিটি পদের বিপরীতে মাত্র ১ লক্ষ টাকা ও সম্মিলিতভাবে ১৫ কোটি টাকার মতো খরচ করলেই পদগুলো বিভিন্নভাবে মামলা মোকাদ্দমা, প্রশাসনিক জটিলতার মধ্য দিয়ে স্থায়ী হয়ে যায়। এই অর্থের বেশিরভাগ অংশ প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খরচ করা হয়। এখানে দুর্নীতি করা হয় বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. মামুনুর রশিদকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

তবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরফলে শিক্ষকরা হতাশায় ভুগছেন। অনেকে আবারো আশাহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অধিদপ্তরের কিছু করার নেই। কারণ বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখভাল করবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর সৈয়দ গোলাম ফারুক চৌধুরী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সিনিয়র শিক্ষক পদ সৃজনের জন্য আমরা সব ধরণের কাগজপত্র শিক্ষা, জনপ্রশান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসু বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত পদ সৃজন হয়ে যাবে।

সেসিপ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকদের আতঙ্কের কিছু নেই।

অপরদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৪টি প্রকল্প থেকে ২হাজার ১৭৩ টি পদের মধ্যে ২,হাজার ৪৪ টি পদকে স্থায়ী করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে ১৬৫টি পদ বিলুপ্তসহ ৫টি শর্ত দেওয়া হয়। প্রকল্প চারটি হলো- ফিমেল সেকেন্ডারি স্কুল অ্যাসিসটেন্ট প্রজেক্ট, ফিমেল সেকেন্ডারি স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ও ফিমেল সেকেন্ডারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ) এর উপপরিচালক প্রফেসর ড. সামসুন নাহার বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হবে। তারপর অর্থমন্ত্রণালয় মূল কাজটি করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় বৈঠকের পর আবার এটি জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ফাইল দেখা হচ্ছে। তাদের সনদ ঠিক আছে কী না, সার্ভিস কেমন ছিলো এ বিষয়টিও দেখা হবে। এরপরও যাচাই বাছাই এর কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেককে ছাটাই ও করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে পদ সৃজন করতে হবে কিনা এমন প্রশ্নে ড. সামসুন নাহার বলেন, কিছু পদ সৃজন ও কিছু পদ স্থানান্তর করতে হবে। ১২৬টি ক্যাডারের জন্য পদ সৃজন করা হবে। আর বাকিদের স্থানান্তর করা হবে। সবার পদ সৃজন করতে গেলে আরো সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে পরে একটা পর্যায়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশননের (পিএসসি) সুপারিশ লাগতে পারে।

বাংলাদেশ জার্নাল- একে/ওআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত