ঢাকা, শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩ আশ্বিন ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

শত অভিযোগ, এনটিআরসিএ বলছে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ

  আসিফ কাজল

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২১, ১৯:৩৬  
আপডেট :
 ২৬ জুলাই ২০২১, ১৯:৫১

শত অভিযোগ, এনটিআরসিএ বলছে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত
আসিফ কাজল

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রকাশিত তৃতীয় গণনিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ফলাফলে মেধাক্রম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশবঞ্চিত নিয়োগপ্রত্যাশীরা মেধাক্রম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছে লিখিত আবেদন জমা দিচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত অভিযোগকারীর সংখ্যা দুই শতাধিক। চলমান লকডাউনের পর পুরোদমে অফিস চালু হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সুপারিশবঞ্চিত নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

প্রার্থীরা বলছেন, মেধাক্রম যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই ফল প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ।

অভিযোগকারী আব্দুল আজিজ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ৩য় বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি শিক্ষক গণিত বিষয়ে আবেদন করি। আমাকে কোথাও সুপারিশ করা হয়নি। কিন্তু মেরিট লিস্টে আমার পিছনে থাকা অনেকেই আমার আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পেয়েছে। আমার চয়েজক্রমের ১১,১৬,২১,২৯,৩৪,৩৬, ৪১ ,৪৪, আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম হয়েছে।

মো. মওদুদ হাসান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ১৫তম নিবন্ধনে রসায়ন বিষয়ে স্কুল পর্যায়ে আমি আবেদন করি। আমার মেরিট পজিশন ছিলো ৪২৯৯, রোল নং ৩২০০০৯৯০৯ অথচ আমার কোন প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ হয়নি। কিন্তু আমার চেয়ে প্রায় ৪০০ বেশি মেরিটধারী (মেরিট- ৪৭২৯), রোল- ৩২০১১২৬৭,ব্যাচ নং-১৪, সুপারিশ পায়!! যে প্রতিষ্ঠানে উনি নিয়োগ পেয়েছেন ঐ প্রতিষ্ঠানটি আমার চয়েজে ২য় ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি একটি নন এমপিও পোস্টেও আবেদন করেছিলাম কিন্তু কলেজে রেজাল্টই নেই। নন এমপিও পোস্টটি আমার চয়েজ লিস্টের ৫ম সিরিয়ালে রেখেছিলাম। সর্বপরি এই ৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে আমি Not Selected হলাম। মানষিকভাবে আমি বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি।

একই অভিযোগ ১২তম ব্যাচে ইংরেজি বিষয়ে নিবন্ধনধারী নিখিল চন্দ্র গোলদারেরও। তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত মেধাতালিকায় আমার মেধাক্রম ৩০৮৩ এবং সিরিয়াল ৩৩৯৫। আমি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার শশীকর উচ্চ বিদ্যালয়ে আবেদন করে নিয়োগ পাইনি। কিন্তু যে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তার মেধাক্রম ৪৬৬৫ এবং সিরিয়াল ৬০৪৪।’

বাগেরহাটের মোসা. আজমিরা খাতুনেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘আমি ১৫তম ব্যাচের ব্যবসায় শিক্ষায় একজন নিবন্ধনধারী। মোট আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছি। এই আটটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোটিতে মেধাক্রম অনুসরণ করা হয়নি।’

আজমিরা বলেন, ‘আমার মেধাক্রম ৩৭১। আমার প্রথম চয়েস (বাগেরহাটের) বরনি সাইরাবাদ এমএল হাই স্কুলে যিনি নিয়োগ পেয়েছেন তার মেধাক্রম ২৩৪০। এ ছাড়া আমার আবেদন করা অন্য সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাক্রম অনুসরণ করা হয়নি। যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের মেধাক্রম যথাক্রমে ২৩৪০, ৯৫৫, ২৩৪০, ১৫১৪, ৭০১, ২৩৪০ ও ১৫১৪।’

১৪তম ব্যাচের ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ের নিবন্ধনধারী টাঙ্গাইলের সাইফুল ইসলাম জানান, তিনিও মোট আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন। তার অভিযোগ, আটটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনোটিতেই মেধাক্রম অনুসরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক নিয়োগের সুপারিশ যারা পেয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ জার্নালের। তারা জানান, অনেকেই নিয়োগের সুপারিশ পাইনি। অনেকে আবার না বুঝেই অভিযোগ করছেন। আবার অনেকে ছলচাতুরী করার চেষ্টা করছেন। যারা অভিযোগ করছেন তাদের মধ্যে ৩০ ভাগ ভুক্তভোগী।

যদিও সুপারিশবঞ্চিত এসব নিয়োগপ্রত্যাশীরা ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে আবার নির্ভুলভাবে প্রকাশের আবেদন করেছেন।

তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

তারা বলছে, এ ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফল প্রকাশের যথাযথ প্রক্রিয়া না বুঝেই প্রার্থীরা এ রকম অভিযোগ করছেন। তারপরও যদি মেধাক্রম লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএ'র সচিব ড. এ টি এম মাহবুব-উল করিম বলেন, ‘এনটিআরসিএ'র তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশের পর বেশ কিছু অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন। সেই অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সচিব মহোদয়কে লিখিত আকারে তথ্যপ্রমাণসহ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে অভিযোগগুলো সত্য নয়। প্রার্থীরা ফল প্রকাশের সঠিক প্রক্রিয়া না জেনেই অভিযোগ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি এনটিআরসিএর নিয়োগ-প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ। এরপরেও যারা অভিযোগ করছেন, তাদের কাছে আমার অনুরোধ লকডাউন শেষে অভিযোগগুলো এনটিআরসিএতে জমা দিন অথবা ই-মেইল করুন। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করব এবং সত্যতা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। কেন তারা নিয়োগের সুপারিশ পাননি, সে বিষয়টিও তাকে জানিয়ে দেবো।’

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/এমএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত