ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ১ মিনিট আগে

শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান

বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  মনিরুজ্জামান, ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ২১:৩৮

বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: প্রতিনিধি
মনিরুজ্জামান, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান শুরু হবে বুধবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে টিএসসি, উপাচার্য ভবন, কার্জন হল, কলা ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, আবাসিক হল ও অভ্যন্তরীণ সড়কে দৃষ্টিনন্দন আলোক সজ্জা শোভা পাচ্ছে। ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আলোক বাক্স ও রঙিন প্ল্যাকার্ডে উৎসবের আমেজ বইছে পুরো ক্যাম্পাসে।

১৯২১ সালের ১ জুলাই এই ভূখণ্ডের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। শত বছরে দেশের এই শীর্ষ বিদ্যাপীঠের গৌরবের দিক আছে অনেক। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিকদের বড় অংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, পড়িয়েছেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দেশের সব গণ-আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা ছিল অসামান্য।

গত ১ জুলাই ২০২১ শতবর্ষ পূর্ণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে করোনার ভয়াল থাবায় শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। মহামারী শিথিল হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১ ডিসেম্বর উদযাপন করেতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান পালনের জন্য মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তবে খেলার মাঠে সকল শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় টিএসসি, কলা ভবনের সামনের বটতলা, মুহসীন হল মাঠে বড় পর্দায় অনুষ্ঠান দেখানোর জন্য তিনটি আলাদা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী কিংবা ক্যাম্পাসের রাস্তায় যাতায়াতকারী সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বর্ণিল এ আলোকসজ্জা। শিক্ষার্থীসহ অনেকেই সুন্দর মুহূর্তগুলোর সাক্ষী হওয়ার জন্য ছবি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, শতবর্ষ উদযাপন আমাদের সকলের কাছে একটা আনন্দের ব্যাপার। শতবর্ষ উদযাপনে আমরা কোনো কমতি রাখবো না। সকলেই যেন এটি সফলভাবে উদযাপন করতে পারে, সেজন্য আমরা ইতোমধ্যেই প্রায় সকল কাজ সম্পূর্ণ করেছি।

শতবর্ষের অনুষ্ঠানসূচি:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যাতে আলোচনা সভা, থিম সং পরিবেশন, তথ্যচিত্র প্রদর্শনসহ নানান কর্মসূচির পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই লোটে শেরিং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শতবর্ষের তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও শতবর্ষের 'থিম সং' পরিবেশন করা হবে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত বই, ফটোগ্রাফি অ্যালবাম ও ওয়েবসাইট উদ্বোধন করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এবং ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি এ কে আজাদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ওইদিন বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

উৎসবের উদ্বোধনী দিনসহ ২ ডিসেম্বর, ৩ ডিসেম্বর, ৪ ডিসেম্বর ও ১২ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিকেল ৪টায় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। প্রথিতযশা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এবং নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীবৃন্দ ও অ্যালামনাইবৃন্দ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন।

আলোচনা সভায় থাকছেন যারা:

উদ্বোধনী দিনে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেলের আলোচনা পর্বে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, দি ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার অংশগ্রহণ করবেন। আলোচনা সভায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

উৎসবের ২য় দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু অংশগ্রহণ করবেন।

উৎসবের ৩য় দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও অনারারি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ অংশগ্রহণ করবেন।

উৎসবের ৪র্থ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শাহাদত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার অংশগ্রহণ করবেন।

এছাড়া ১২ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক বিজয় র‍্যালি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে বের হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে। ওইদিন বিকেলের আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের সভাপতিত্বে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক এ আর এম মনজুরুল আহসান বুলবুল অংশগ্রহণ করবেন।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টায় মহান বিজয় দিবসে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করবেন। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে 'লেজার শো' আয়োজন করা হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে থাকছেন যেসব শিল্পী:

১ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশনা করবেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, সংগীত পরিবেশনা করবে ঢাবির সংগীত বিভাগ, নৃত্য পরিবেশনা করবে ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগ, বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন ভারতীয় শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। শিল্পী হিসেবে এদিন আরও অংশগ্রহণ করবেন সামিনা চৌধুরী, সৈয়দ আব্দুল হাদী, ফরিদা পারভীন, ফাতেমা তুজ জোহরা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একক আবৃত্তি করবেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, নৃত্য পরিবেশন করবেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, সংগীত পরিবেশন করবে ঢাবির সংগীত বিভাগ। শিল্পী হিসেবে এদিন আরও অংশগ্রহণ করবেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, ইয়াসমীন মোস্তারী, ফাহমিদা নবী, কুমার বিশ্বজিৎ।

তৃতীয় দিন ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নাটক পরিবেশন করবে ঢাবির থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, নৃত্য পরিবেশন করবে ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগ। শিল্পী হিসেবে এদিন অংশগ্রহণ করবেন অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, রফিকুল আলম, শুভ্র দেব, বাপ্পা মজুমদার।

অনুষ্ঠানের চতুর্থ দিন ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করবে ঢাবির সংগীত বিভাগ এবং ঢাবি অফিসার্স ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা পরিবেশনা করবে ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগ। শিল্পী হিসেবে এদিন অংশগ্রহণ করবেন নাদিরা বেগম, কিরণ রায়, শারমিন সুলতানা সুমি। থাকবে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চিরকুট।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত