ঢাকা, বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ৭ মিনিট আগে

ঢাবির শতবর্ষ: থিয়েটার বিভাগের গবেষণাধর্মী নাট্য পরিবেশনা

  ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:৫৯

ঢাবির শতবর্ষ: থিয়েটার বিভাগের গবেষণাধর্মী নাট্য পরিবেশনা
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তি উপলক্ষে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ মঞ্চে নিয়ে আসছে ইতিহাস পাঠ ও মানবতার মুক্তি বিষয়ক গবেষণাধর্মী বিশেষ নাট্য পরিবেশনা।

‘উদয়ের পথে এই আলোকতীর্থে’- শীর্ষক গবেষণাধর্মী বিশেষ নাট্য পরিবেশনাটিতে ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরের ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শুরু করে উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম, বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, সামরিক শাসন, স্বৈরাচারী শাসন, যুদ্ধাপরাধীর বিচারসহ নানান যৌক্তিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় অবদান।

পরিবেশনাটিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান, গণসংগীত, মুক্তিরগানসহ আরও ৩টি মৌলিক গান ব্যবহার করে গল্পের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে পরিবেশনাটির অন্তর্গত চিন্তা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নাকাড়া, ঢোল, খোল, কংগো, বাঁশি, মন্দিরা, গং, কাহন ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র।

বিভাগের শিক্ষক নাভেদ রহমানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় বিভাগের স্নাতকোত্তর এবং স্নাতক অষ্টম, ষষ্ঠ, চতুর্থ ও দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যায়নরত ৫৬ জন শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে এই গবেষণাধর্মী নাট্য পরিবেশনাটি নির্মিত হয়েছে।

এই পরিবেশনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের ৩য় দিন (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে।

বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়নের মূল ভাবনা ও সমন্বয়ে বিভাগের স্নাতকোত্তর বর্ষে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের গবেষণায় ‘উদয়ের পথে এই আলোকতীর্থে’ পরিবেশনাটির পাণ্ডুলিপি নির্মাণ ও সূচনা সংগীত রচনা করেছেন শংকর কুমার বিশ্বাস। পরিবেশনাটির সমাপনী সংগীতসহ দুটি মৌলিক গান রচনা করেছে বিভাগের শিক্ষক শাহমান মৈশান।

পরিবেশনাটিতে সুর, সংগীত ও পোশাক পরিকল্পনা করেছে কাজী তামান্না হক সিগমা, চলন, দেহ বিন্যাস ও কোরিওগ্রাফি করেছে অমিত চৌধুরী, মহড়া ও আবহ সংগীত তত্ত্বাবধান করেছে মনোহর চন্দ্র দাস। পাশাপাশি, মহড়াটিতে সার্বিক তত্ত্বাবধান ও অনুপ্রেরকের ভূমিকা পালন করেছে তানভীর নাহিদ খান।

নাট্য পরিবেশনাটির নির্দেশক নাভেদ রহমান বলেন, ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদে উজ্জীবিত হয়ে পঞ্চাশ বছর আগে বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্রটির জন্ম হয়, তার পেছনে চেতনার স্ফুরণ হিসেবে দৃপ্ত ভূমিকা পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক-বাংলাদেশের যেকোন উত্তাল সময়ে বাধঁ হিসেবে দাঁড়িয়েছে দেশের এই প্রবীন প্রতিষ্ঠান। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরশাসকের পতন, যুদ্ধাপরাধীর বিচারসহ প্রতিটি সংকটেই দৃপ্ত ভূমিকা রেখেছে ১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং বাংলাদেশের অর্ধশতবর্ষ একই বৃন্তে মিলিত। আর এই মিলনকে শ্রদ্ধা জানাতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।'

‘উদয়ের পথে এই আলোকতীর্থে’- শীর্ষক পরিবেশনাটির পান্ডুলিপি নির্মাণ প্রসঙ্গে শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, 'উদয়ের পথে শতবর্ষের আলোক তীর্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের 'লোগো'তে আলোক শিখার উপরে সর্বদা জ্বলজ্বল একটি স্লোগান। ‘শিক্ষাই আলো’। শতবর্ষের সেই প্রদীপ্ত আলোক বিচ্ছুরিত জ্ঞানালোকের অন্তরালে কত জ্ঞানী-গুণী, মনীষী-মহাজনের অবদান রয়েছে। তাদের নির্দেশিত সত্য দর্শনের অভিজ্ঞতায় উদয়পথ অনুসরণে, স্মৃতির স্মরণে, আনন্দ-উদযাপনে এই পরিবেশনার পাণ্ডুলিপি ও সূচনাগীত সৃজনের মূল অনুপ্রেরণা এবং পাণ্ডুলিপি বিনির্মাণে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীবৃন্দের গবেষণা প্রধান ভূমিকা বহন করে। এই সৃজনশীল ঐতিহাসিক কর্মে আমার কলমের কালি ও চিন্তার যোগসূত্র ঘটাতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

নাট্য পরিবেশনাটির প্রধান সমন্বয়ক ও বিভাগের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান লিয়ন বলেন, ‘সাংস্কৃতিক মুক্তির উপরেই নির্ভর করে একটি দেশের আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন। এই মুক্তির সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিরকাল অটুট। তারই ধারাবাহিকতায় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ শুধুমাত্র আনন্দ ও শিল্পরস আস্বাদনের জন্য নয় বরং এই জাতির ইতিহাস, রাজনীতি, উন্নয়ন ও মুক্তির কথা আমলে রেখে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর এরই একটি ধারাবাহিক রূপ হলো এই বিশেষ নাট্য পরিবেশনা।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত