ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ৫০ শতাংশের বেশি: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

  ঢাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩:০৮

বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ৫০ শতাংশের বেশি: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী
ছবি- প্রতিনিধি
ঢাবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি উল্লেখ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনের আলোচনা সভার বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

গত ১ ডিসেম্বর বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উৎসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি উল্লেখ করতে হবে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় যে সবসময় ভালো কাজ করেছিল এমনটা নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুকে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বহিষ্কার করেছিল।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি না হতো তাহলে রাষ্ট্রভাষা বাংলা এটা প্রতিষ্ঠিত হতো না। রাষ্ট্রভাষা বাংলার যে স্বীকৃতি এটাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বিরুদ্ধে যে আন্দোলন তাতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকায় পালন করেছিল।

মোজাম্মেল হক বলেন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান যদি না হতো তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আরো অনেক পরে হতো। এই গণঅভ্যুত্থানে এককভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই আমি মনে করি বাংলাদেশের সৃষ্টির যে আলোকবর্তিকা যেটা প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল সেই কৃতিত্বের সিংহভাগেরই অংশীদার আমাদের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও অনারারি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মেল্টিং পট। যেখানে আমরা সমাজের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এসে আধুনিক মনস্ক মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি বা বাঙালি হিসেবে গড়ে উঠেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের ঋণের শেষ নেই। আমাদের শিক্ষকেরা আমাদের জীবন গড়বার জন্য বাবা-মায়ের চেয়েও গভীর ভূমিকা পালন করেছেন। এখনই সেভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়কদের অধিকাংশই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এই ঐতিহাসিক পরিক্রমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম। মূলত বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করবার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি। কিন্তু এটি শুরু থেকেই ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জাগরণের সুতিকাগার হয়ে গড়ে উঠেছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভিন্ন মাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো এবং আছে।

আতিউর রহমান আরো বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে বিশ্বমানের জনসম্পদ তৈরির জন্য উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবো আমরা সেই অঙ্গীকার করছি। সকল অংশীজনের সহযোগিতায় কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অভিযাত্রায় নিশ্চয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা পালন করবে। প্রয়োজন বাড়তি মনোযোগ এবং বিনিয়োগের, সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই সরকার এবং অংশীজনদের আছে।

সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই অঞ্চলের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। আর এই জনগোষ্ঠী ছিলো মুসলিম জনগোষ্ঠী। এই বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম জাতীয়তাবাদী চিন্তার মাঝে থেকেও সাম্প্রদায়িকতায় ভেসে যায়নি। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আজকে যুগ পাল্টেছে, সময় পাল্টেছে, সামনে আরো নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে একাডেমিক লিডারশীপ প্রয়োজন তা আপনারা দেবেন এবং এই ক্ষেত্রে গবেষণার যে মূল্য রয়েছে, সেই বিষয় টা আনতে হবে।

আলোচনা সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত