মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠন: রেলমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২২, ১৪:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ক্ষুদামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, এমপি।

তিনি বলেন, ‘সবার ওপরে আমাদের দেশ। আমাদের যে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের একটা স্বপ্ন ছিলো ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনের। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার সকল পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।’

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত শতবর্ষের মিলনমেলা অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। 

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান হল প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য, দেশের মানুষকে একটি স্বস্তির মধ্যে দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে একটি টেকসই উন্নয়ন দিতে পারি সে অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে আগামী দিনে এলামনাই এসোসিয়েশন দেশ,জাতি ও আগামী প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গঠন করতে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমরা উন্নয়নমূলক কিছু জাতীয় পদক্ষেপ নিতে পারি। এর জন্য ফান্ড এবং ফান্ডের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতাও প্রয়োজন। এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে এলামনাই এসোসিয়েশন আগামী দিনে দেশকে এগিয়ে নিতে কী কী কাজ করতে পারে এবং নতুন প্রজন্মকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারে সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা থাকতে হবে। 

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখানো পথে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর দেশে পরিণত করেছেন। দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে আগামীদিনে হলের প্রতিটি শিক্ষার্থী দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শতবর্ষের মিলনমেলার আনন্দ ভাগাভাগি করতে হলের সকল শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘সকলে মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি দর্শন। তিনি সকলকে নিয়েই আনন্দ উদযাপন করতেন। শুধু কষ্ট ভোগ করতেন নিজে এককভাবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা মোকাবেলায় এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য বৃত্তি প্রদানসহ কিছু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে উপাচার্য হল অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানান।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদ উল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হলের প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাবেদ হোসেন এবং হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর বেপারী উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ