দুই দিনে দুই যৌন হয়রানির ‌‌‌‌অভিযোগ ঢাবি ছাত্রের বিরুদ্ধে

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২২, ১৪:০০ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের এক আবাসিক ছাত্র রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে দুই দিনের ব্যবধানে দুইটি পৃথক যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৫ মে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইট এবং ১৬ মে শিখা চিরন্তনের পাদদেশে পৃথক দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন ভুক্তভোগীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী ‌অভিযোগের বিষয়টি বাংলাদেশ জার্নালকে নিশ্চিত করেন। 

অভিযুক্ত রাকিবুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র। তিনি বিজয় একাত্তর হলের যমুনা ব্লকের ৮০০৫ নম্বর রুমে থাকেন। 

এদিকে অভিযোগকারী টিএসসির ঘটনার ভুক্তভোগী রওনাক জাহান বৃষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থী। ‌অন্যদিকে শিখা চিরন্তনের ঘটনার ভুক্তভোগী শামীমা খাতুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

১৫ মে-এর ঘটনার ‌অভিযোগপত্রে রওনাক জাহান উল্লেখ করেন, ‘গত ১৫ মে (রোববার) টিএসসি প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে একটা ছেলে অনেকক্ষণ ধরে আমাকে উদ্দেশ্য করে বাজে মন্তব্য করতে থাকে। একটা পর্যায়ে আমার আরও নিকটবর্তী হয়ে অত্যন্ত অশালীন ও অভদ্র ইঙ্গিত দিতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে আমি তার নিকট জবাবদিহিতা চাইলে উল্টো আমার ওপর চড়াও হয়ে নানা হুমকি দিয়ে চলে যায়।’

তিনি আরও লিখেন, ‘আমি তাকে ক্যাম্পাসের ছাত্রী পরিচয় দিয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে অবহিত করলেও সে তার অবস্থান থেকে নিবৃত্ত হয়নি।’

‌অপরদিকে ১৬ মে-এর ঘটনার অভিযোগপত্রে শামীমা জাহান উল্লেখ করেন, ওইদিন তিনি তার এক বন্ধু ও বন্ধুর মা সহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে (শামীমা) গাড়িতে তুলে দিতে তার বন্ধু শিখা চিরন্তনের দিকে যান। সেখানে অবস্থানকালীন একটি বাইকে করে রাকিবসহ মোট তিনজন এসে তাদের ছিনতাই করার চেষ্টা করেন। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক পর্যায়ে আক্রমণকারীরা তাদের শিখা চিরন্তনের পেছনে ধরে নিয়ে যায়। একজন শামীমার বন্ধুকে মারতে থাকে এবং অন্য দুইজন শামীমাকে যৌন হয়রানি করে। তারপর শামীমা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে তারা ভয়ে পালিয়ে যায়। 

তবে এই ঘটনার ‌‌অভিযোগপত্রে রাফাত নামের আরেক শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ থাকলেও তার পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। 

এদিকে দুটি অভিযোগের বিষয়ই অস্বীকার করেন ‌অভিযুক্ত রাকিব। প্রথম ঘটনার বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘আমি আমার গার্লফ্রেন্ডের সাথে ওইখানে (টিএসসি) ছিলাম। আমার গার্লফ্রেন্ডকে ডাকতে গিয়ে ভুল করে আমি আপুকে (রওনাক জাহান বৃষ্টি) ডেকে ফেলেছি। এটি ভুল বোঝাবুঝি। আমার গার্লফ্রেন্ড একটু এগিয়ে যায়। ওই স্পটে বৃষ্টি আপুও ছিল। অন্ধকারে আমি ওনাকে আমার গার্লফ্রেন্ড ভেবে ভুল করে ‘আসো’ বলে ডেকে ফেলি। পরে যখন বুঝতে পারি তখন আমি আমার গার্লফ্রেন্ডের দিকে হাঁটা শুরু করি। তারপর উনি ওনার বয়ফ্রেন্ড নিয়ে এসে আমাকে ধরেন। তারপর তিনি বলেন, ‘তুমি ইভটিজিং কেন করলা!’ আমি বলি আমি তো ইভটিজিং করিনি আপু, আমার ভুল হয়েছে। পরে আমি তাকে সরি বলি এবং তার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই।’

দ্বিতীয় ঘটনাটিও সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমি ওখানে ছিলাম না। আমি ওই আপুর সামনাসামনি যেতে রাজি আছি। তিনি যদি বলেন আমি এই কাজ করেছি তা হলে আমি তা মেনে নেব।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, প্রথম ঘটনাটি (টিএসসি) আমরা দেখছি। সেটির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আর ‌অন্য ঘটনাটির অভিযোগপত্র এখনো পাইনি। তবে বিষয়টি আমি জেনেছি। মেয়েটি যেহেতু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তার প্রতি পরামর্শ থাকবে সে যেন তার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সহযোগিতা করবে।’


বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ