ঢাকা, বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ৪ মিনিট আগে

বন্যা পরবর্তী শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২২, ২১:২০  
আপডেট :
 ২৩ জুন ২০২২, ২১:৪২

বন্যা পরবর্তী শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ বিশিষ্টজনদের
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, বন্যার সময়ে এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে খাদ্য, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে যেভাবে আলোচনা বা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় দুঃখজনক হলেও সত্য শিক্ষাখাতের ক্ষতি বা বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সেভাবে কোনো আলোচনা বা উদ্যোগ চোখে পড়ে না। অথচ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী এবং পুরো শিক্ষা সেক্টর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বন্যা পরবর্তী শিক্ষাখাতের দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে করণীয় ও বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে এসব সুপারিশ উঠে আসে।

‘আমাদের শিক্ষা বাজেটের গতি প্রকৃতি ও আগামীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণসাক্ষরতা অভিযান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া দরকার শিক্ষার কাঠামোগত পরিবর্তন। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। আমরাও চাই শিক্ষা খাতে নতুন কিছু উপহার দিতে।

তিনি বলেন, একটি সময় ছিল যখন শুধু শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যা বাড়ানোর উপরেই জোর দেয়া হতো। আমরা এর পরিবর্তন করে নতুন শিক্ষা নীতিতে পঠন ও শিখনের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দক্ষ ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর যে কথা বলা হচ্ছে এটা কোনো ব্যয় নয়; বরং এটাই হচ্ছে বড় একটি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হলেই শিক্ষা সেক্টরে বড় একটি পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের বাজেটে কিংবা সরকারের ব্যয় না বাড়ানো হলেও অভিভাবক বা পরিবারের পক্ষ থেকে কিন্তু শিক্ষাখাতে ব্যয় ঠিকই বাড়ছে। অনেক পরিবার আছে যারা সন্তানের ব্যয় মেটাতে না পারার কারণেই পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কোচিং নির্ভরতা কমিয়ে ক্লাসরুমে ঠিকমতো যত্ন নিয়ে পড়ানো হলে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক অতিরিক্ত কিংবা ফরমায়েশি কিছু বইয়ের বোঝা বাড়িয়েও শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে অতিরিক্ত খরচের চাপে ফেলে দেয়া হচ্ছে।

রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, করোনার ধকল কাটতে না কাটতেই এখন আবার বন্যার কবলে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনই বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি করোনার দুই বছরকে শর্ত হিসেবে নিয়ে এই দুই বছরে যেসব মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিয়ে হয়েছে তাদেরকে পুনরায় শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় আনারও সুপারিশ করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়লেই শুধু মানের উন্নয়ন হবে বিষয়ই এমন নয়। তবে শিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় কম বরাদ্দ নিয়েও আবার কাজ করা যায় না। শিক্ষাখাতে যেসব প্রকল্পগুলো চালু ছিল সেগুলো পুনরায় চালু করতে বা রাখতেও সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে মিড ডে মিল প্রকল্পটি চালু রাখার বিষয়ে দাতা সংস্থার সাথে সরকারও কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন।

ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা সরকার বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাখাতের বিভিন্ন প্রকল্প সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি শিক্ষার উন্নয়নে কোয়ালিটি শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের অংশীজনদের সমন্বয়ে কাজ করার সুপারিশ করেন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান, গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রতিষ্ঠানা সদস্য অরোমা দত্ত, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা সরকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সেক্টরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ জার্নাল/একে/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত