বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন, তার চেতনা ধারণ করতে রাজনৈতিক সংগঠন লাগে না: বুয়েট শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  ঢাবি প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বজনীন। তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ধারণের প্রয়োজন পড়ে না বলে মন্তব্য করেছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে। তার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা সমৃদ্ধিময় সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত।

রোববার দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটারিয়ার সামনে শনিবার রাতের বিক্ষোভ নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়ার সময় এসব কথা বলেন তারা। এ সময় বুয়েটের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম ভবনের সেমিনার রুমে “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বুয়েট এর সাবেক নেতৃবৃন্দ”—এর ব্যানারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু গত ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে নিষিদ্ধ করা হয়। বুয়েটের প্রশাসনিক আইন অনুসারে, বুয়েটের বর্তমান ও সাবেক সকল শিক্ষার্থী, প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ উক্ত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বাধ্য।

তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ব্যানার দেখে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মাননীয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে অবহিত করে এবং কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে। সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির পুনরুত্থানের আশংকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে উত্থাপন করা হয়।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সেমিনার কক্ষে ছাত্রলীগের সাবেকদের অনুষ্ঠান যথারীতি সমাপ্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে কোনোরূপ বাধা প্রদান করেনি। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

অতীতের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, বুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিরাজমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বলি হয়েছে। যাদের সর্বশেষ সংযোজন ছিল আবরার ফাহাদ। লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা আমাদের নিরাপদ ক্যাম্পাস যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে গতকাল আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে তাদের কর্মসূচিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপপ্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, এসব অপপ্রচার শিক্ষার্থীদেক ভীত, সন্ত্রস্ত এবং একই সাথে ব্যথিত করছে। আজকে আমরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে চাই, আমাদের গতকালকের কর্মসূচি কোনভাবেই ক্যাম্পাসে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানবিরোধী ছিল না। বরং বিশ্ববিদ্যালয় কেন এরকম অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলো আমরা সেটার জবাবদিহিতা চেয়েছি প্রশাসনের কাছে।

বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় দিবস সমূহের অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসছে উল্লেখ করে তারা বলেন, আগামীকাল, ১৫ আগস্ট বিকাল পাঁচটায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেইসাথে গতকাল উপাচার্য মহোদয় বরাবর লিখিত আবেদনপত্রে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি প্রার্থনা করা হয়েছে। অত্র অনুষ্ঠানে বুয়েটের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, বুয়েটের সকল সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ ছাড়াও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাদর আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তারা এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল (শনিবার) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগের ব্যানারে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করে বুয়েট ছাত্রলীগের একদল সাবেক নেতৃবৃন্দ। আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ। সেই সূত্র ধরে ছাত্রলীগের এই কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘আবরারের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না, আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না, রাজনীতির ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে কর্তৃপক্ষের নিরবতার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সুষ্ঠু ব্যখ্যা চেয়ে তারা বুয়েট উপাচার্য বরাবর একটি দরখাস্ত পেশ করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে