ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

সেলিম আল দীনের জন্মজয়ন্তী, জাবিতে পাঁচ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব

  জবি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৬:২৮

সেলিম আল দীনের জন্মজয়ন্তী, জাবিতে পাঁচ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব
ছবি: প্রতিনিধি
জবি প্রতিনিধি

রবীন্দ্রোত্তর কালের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ও গবেষক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব। বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির নাট্যদর্শন আরও বেশি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করেছে জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা অনুষদ সংলগ্ন মৃৎমঞ্চ থেকে একটি বর্ণাঢ্য পুষ্প অভিযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সেলিম আল দীনের সমাধিস্থলে গিয়ে শেষ হয়।

পুষ্প অভিযাত্রায় অংশ নেন সাময়িক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম, নাট্যব্যক্তিত্ব ও ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল আহমেদসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সেলিম আল দীনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

উপাচার্যের পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ঢাকা থিয়েটার, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ভোর হলো, স্বপ্নদল, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র, বাংলদেশের পুতুল নাট্য গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র, নাট্যস্নাতক মঞ্চ, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), তালুকনগর থিয়েটারসহ বিভিন্ন নাট্য সংগঠন ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী সেলিম আল দীনের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইস্রাফিল আহমেদ বলেন, ‘সেলিম আল দীনের ৭৩তম জন্মজয়ন্তীতে আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। পাঁচ দিনব্যাপী নাট্যোৎসবের এ আয়োজনে আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। এ নাট্যোৎসবের মাধ্যমে সেলিম আল দীনের নাট্যদর্শন আরো বেশি মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস।’

নাট্যব্যক্তিত্ব ও ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, ‘সেলিম আল দীন শুধু একজন নাট্যকার নন, সেলিম একটি ঘটনা। ভারতবর্ষে হাজার বছরের শাসনের পরও সংস্কৃতি কিন্তু হারিয়ে যায়নি। নতুন ধর্মপ্রচার হলেও ভাষা-সংস্কৃতি হারিয়ে যায়নি। এখানকার জাতিগোষ্ঠীর ধর্মের ভাষা আর সংস্কৃতির ভাষা এক ছিল না। এজন্যই ইংরেজরা সবকিছু ইংরেজিতে চালু করলেও বাংলার আধিপত্য নষ্ট হয়ে যায়নি। আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পেরেছি। আমাদের এ চেতনা ধরে রাখতে পেরেছি।’

এরপর বেলা বারোটায় পুরাতন কলা অনুষদের সেট ল্যাব ১ এ নাটকের নানা দিক নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় একটি মাস্টার ক্লাস। নাট্যকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থতিতে এই সেশনে বক্তব্য রাখেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান।

উল্লেখ্য, জহির রায়হান মিলনায়তনের থিয়েটার ল্যাব ৩ এ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়িত হবে নাটক 'প্রাচ্য'। পরবর্তী চার দিন অভিন্ন স্থান ও সময়ে মঞ্চায়িত হবে নাটক 'কিত্তনখোলা', 'বনপাংশুল', 'কেরামতমঙ্গল' এবং 'পুত্র'।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত