ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৮, ১২:০৩

প্রিন্ট

বিবাহিত, চাকরিজীবী এবং অছাত্র তবুও ছাত্রলীগ নেতা!

বিবাহিত, চাকরিজীবী এবং অছাত্র তবুও ছাত্রলীগ নেতা!
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবাহিত এবং চাকরিজীবী হলে ছাত্রলীগের সদস্য পদেও থাকার নিয়ম নেই। সরাসরি সংগঠনটির গঠনতন্ত্রেই রয়েছে এমন নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব হেলথ সায়েন্স (আইএইচটি) কলেজের নবনির্বাচিত ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি সহ একাধিক পদধারী রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

গত ২৪ এপ্রিল ঘোষিত হয় ছাত্রলীগ আইএইচটি শাখা কমিটি। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি জসীমউদ্দিন জনি ২০১৪-তেই বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী নাজমা আক্তার মারিয়া একই কলেজের ল্যাব মেডিসিন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

ক্যাম্পাসের সবাই বিষয়টি জানলেও এখন জসীম বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

কলেজসূত্রে খবর, ২০১২ সালের কমিটিতে সভাপতি পদ পাওয়ার পর থেকেই জসীমের লাগামহীন আচরণ শুরু হয়। তার ক্ষমতার এত দাপট ছিলো যে নিয়মকে উপেক্ষা করে সে মারিয়াকে ছেলেদের হলে তার রুমে রাখত। একাধারে দশ পনের দিন করে রুমে রাখলেও প্রশাসন কিংবা সাধারণ ছাত্ররা চুপ থাকত জসীমের ভয়ে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জসীম খোলা ছুরি হাতে ওই কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ১০১ নম্বর রুমে ঢুকে আইরিন নামের এক ছাত্রীকে মারতে উদ্যত হয়। তৎকালীন হল সুপার বিষয়টা জানলেও তা ধামাচাপা দিয়ে দেন। এই ঘটনায় সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। যার রেশ কাটতে না কাটতেই তার ক্ষমতা বলে তারই দেখানো পথে তারই ছোট ভাই রনি মহিলা হোস্টেলের তিন তলার গণরুমে ঢুকে তার এক ছাত্রীকে বেদম মারধর করে।

এছাড়া, আরও অভিযোগ রয়েছে, হলের প্রত্যেক সিটের জন্য জসীম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে সীমাহীন জালিয়াতির অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে নবগঠিত আইএসটি শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত আলমাস উদ্দিনের বিরুদ্ধেও। জানা গেছে, তিনি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র ফরিদগঞ্জ শাখায় কর্মরত। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। আলমাসের ফেসবুক পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া তিনি ২০০৮ সালে বিয়ে করেন এবং তিনি এক কন্যা সন্তানের জনক।

এই দু’জন ছাড়াও নবগঠিত আইএসটি শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে রয়েছেন ‘অছাত্র’ মোঃ আপন আলী, তিনি ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পরীক্ষায় ফিজিওথেরাপি ডিপার্টমেন্ট থেকে উত্তীর্ণ হন। তার রোল নম্বর ছিল ১৬৪৩ এবং রেজিঃ নং- ৩১২৪০।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close