ঢাকা, শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৬ অাপডেট : ২৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৫

প্রিন্ট

নোবিপ্রবি’তে অতিরিক্ত ভর্তি, বিনা নোটিশে আসন বৃদ্ধি

নোবিপ্রবি’তে অতিরিক্ত ভর্তি
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় যেখানে অতিথি আপ্যায়ন ও সহায়তায় নোয়াখালীবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনন্য নজির গড়েছে, ঠিক সেখানেই ভর্তি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা জটিলতা ও নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত।

গত ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া নোবিপ্রবি'র ৬টি ইউনিটে মোট ১৩২০ আসনের ভর্তি কার্যক্রম পূর্বনির্ধারিত নিয়মে অনুসারে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা মিলে নানা জটিলতা ও নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রমের। 'এ' ইউনিট এ ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালালেও, 'বি' ইউনিটে কোটাবাদে ২৮৮আসনের বদলে ভর্তি নেয়া হয় ৩৬৩ জনের।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনাকারী টিম ও স্ক্রিনে এটি নিশ্চিত করে দেখানো হয়। ভর্তি কার্যক্রম চলাকালীন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট (ইএসডিএম), জুয়োলোজি, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) এ বিভাগগুলোতে ভর্তি চলাকালীন যথাক্রমে ৪০, ৪০ ও ৫টি আসনে বৃদ্ধি করে ভর্তি নেয়া হয়।

হঠাৎ করে পূর্বঘোষিত নোটিশ ছাড়া ভর্তির দিন এভাবে সিট বাড়ানোয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ব্যাপারটি হাস্যকর! কারণ, এভাবে সিট বাড়িয়ে ভর্তি নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও সুনাম দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সদ্য ইএসডিএম এ ভর্তি হওয়া আরিফ হাসানকে জিজ্ঞাসা করা হলে যে হঠাৎ আসন বৃদ্ধিতে তুমি সুযোগ পেয়েছো তোমার অভিমত কি? উত্তরে সে জানায়, ‘নরসিংদী থেকে আসছি, ভেবেছি ভর্তি হতে পারবোনা, সিরিয়াল অনেক পিছনে ছিলো (হাসোজ্জ্বল), এখন তো হলাম। আমার এক বন্ধুর সিরিয়ালও কাছাকাছি ছিল, ওকে নিয়ে আসলেও ভর্তি হতে পারত’।

অপরদিকে, 'ডি' ইউনিটে (সমন্বিত) ২৬০টি আসনের বিপরীতে ৪০১টি আসনে ভর্তি নেয়া হয়। এছাড়াও 'ডি' ইউনিটে ভর্তির আগে হঠাৎ বিভাগ ভিত্তিক আসন বণ্টনে আনা হয় পরিবর্তন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি লজ্জাজনক, আমরা দিনদিন বাজে ভাবে বাংলাদেশে উপস্থাপিত হচ্ছি, এভাবে চলতে থাকলে পরবর্তীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমকে সবাই ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখবে।

ক্যাম্পাসে অসন্তোষ ও ভর্তি কার্যক্রম এ হঠাৎ আসন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সচিব ও রেজিস্টার প্রফেসর মমিনুল হক এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ভর্তি পরীক্ষা এবং ভর্তি অনেক আগেই হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য অনেকে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে ভর্তি বাতিল করে অন্যত্র চলে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এই জন্য আসন বৃদ্ধি না করে বেশি করে ভর্তি নিচ্ছি যেন পরবর্তীতে কেউ চলে গেলে সিট ফাঁকা না থাকে, এতে অসন্তোষের বা মান নিয়ে কোনো প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগতো দেখছি না’।

এদিকে সবকিছু মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল গ্রুপ ও শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম প্রশ্নবাণে জর্জরিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে নোবিপ্রবিতে ১৩২০ আসনের বিপরীতে প্রায় ৭০২১৮ জন পরীক্ষার্থী ৬টি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর মোট ছয় ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close
close